


ইকুয়েডরে কারাগারে সহিংসতায় ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি সামালে কারাগারে জরুরি অবস্থা জারি করেছে প্রশাসন।
শনিবার ইকুয়েডরের অন্যতম সবচেয়ে বিপজ্জনক কারাগারে সংঘর্ষ শুরু হয়। সহিংসতায় মৃতের সংখ্যা মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল।
এর আগে দেশটির সরকার কারাগারগুলোতে দুই মাসের জরুরি অবস্থা জারি করেছিল। দেশটির সরকার বলেছে, জরুরি ঘোষণাটিই ইসমিরালডাস শহরে সহিংসতা শুরুর কারণ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে, এখানে স্থানীয় কারাগারে ১৫ জন কারারক্ষী ও অন্য দু’জন কর্মীকে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইসমিরালডাস শহরে পুলিশের একটি ইউনিটের ওপর হামলা চালানো হয়, পেট্রল পাম্পে বোমা পেতে রাখা হয় এবং বেশ কয়েকটি গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
জরুরি অবস্থা জারির পর গুয়াইয়াকিল শহরের পেনিতেনশিয়ারিয়া দেল লিতোরাল কারাগারে ২৭০০ সেনা ও পুলিশ প্রবেশ করে। তারা নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ চালিয়ে তিনটি সেলব্লকের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে।
দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) করা এক পোস্টে এই কারগারটিতে মৃতের সংখ্যা ১৮ থেকে বাড়িয়ে ৩১ জন করে আর আহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানায়।
সরকার জানিয়েছে, দেশব্যাপী ছয়টি কারাগারে জিম্মি করে রাখা প্রায় ১২০ জনের মতো কর্মকর্তাকে মুক্ত করা হয়েছে।
বেশ কয়েকটি কারাগারে অনশন ধর্মঘট শুরু হয়েছে, এমন কথা শোনা গেলেও সরকারিভাবে এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
ইকুয়েডরের কারাগারগুলোতে নিয়ন্ত্রণ ফিরে না আসা পর্যন্ত এবং বন্দি ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সামরিক হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
২০২১ সাল থেকে ইকুয়েডরের কারাগারগুলোতে সহিংসতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। তারপর থেকে একের পর এক সহিংসতায় এ পর্যন্ত কয়েকশ বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এসব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রেসিডেন্ট লাসো কারাগারগুলোতে নিয়মিত জরুরি অবস্থা জারি করে চলছেন। আগামী ২০ আগস্ট ইকুয়েডরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিছু প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী নির্বাচিত হলে কারাগার সংস্কার করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নির্বাচনের আগে দেশটির কারাগারগুলোতে এসব সহিংসতা শুরু হয়েছে।
নিউজ /এমএসএম