


পল্টন থানার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি হতে যাচ্ছেন ফ্রিডম পার্টির শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাতক জাফর আহমেদ মানিকের সেকেন্ড ইন কমান্ড আলী রেজা খান রানা।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতার ছেলের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এ পদ মোটামুটি নিশ্চিত করেছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের জানিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, আলী রেজা খান রানা রাজধানীর শাহজানপুর এলাকায় ১১ নম্বর ওয়ার্ড (পুরাতন ৩৪) ছাত্রলীগের সভাপতি কাওছার হত্যার মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।
রানা ২০০১ সালে শান্তিনগরে সাদা হত্যা মামলা অন্যতম আসামীও। সভাপতি হওয়ার আগেই তিনি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের জন্য রাজধানীর বানিজ্যিক এলাকা মতিঝিল, শান্তিনগর, পল্টন, শাহজাহানপুর, কাকরাইল, খিলগাঁও এলাকায় ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছে, ফ্রিডম পার্টির ঢাকা মহানগরের দায়িত্বে থাকা শান্তিনগরের মিজান-ইমামের হাত ধরেই ফ্রিডম পার্টিতে যোগ দেন এই আলী রেজা খান।
পরবর্তিতে প্রধানমন্ত্রীর ৩২ বাসায় হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার সাজা প্রাপ্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ফ্রিডম মানিকের ডান হাত বনে যায়। এই রানা এখন পল্টন থানার ১৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ বাগিয়ে নিতে তৎপর হয়ে উঠেছেন। ছাত্রজীবনে সিদ্বেশ্বরী ডিগ্রী কলেজের ছাত্রদলের জিএস মুশফিকুল জামিল কাকনের ক্যাডার ছিলেন। ছাত্রদলের মিছিল-মিটিংয়ে সক্রিয় ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ফ্রিডম মানিকের শীষ্য এখন মতিঝিল, শান্তিনগর, পল্টন, শাহজাহানপুর, কাকরাইল, খিলগাঁও টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম করেছে। এজন্য তারা এলাকায় পেশীশক্তি বিস্তারের পাশাপাশি শুরু করেছে নেতাদের ম্যানেজ করার কাজ। ২০০৮ সালের মার্চ মাসে শাহজানপুরের আমতলায় জুম্মার নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারা যান সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কাওছার। পরে মামলা দায়ের করা হয়। কাওসার হত্যা মামলার অন্যতম আসামী আলী রেজা খান রানা ওয়ারেন্টভুক্ত ৩ মামলার আসামী। ২০০০ সালে শান্তিনগর এলাকার মাদক ব্যবসা এবং আদিপত্ত যেরে সাদাকে হত্যা করা হয়। ততকালীন সাদা হত্যার অন্যতম আসামী এই আলী রেজা খান রানা। ২০১৩ সালে ৩ টা রিভলবার ৮৬ রাউন্ডগুলি ও ১২০০ পিছ ইয়াবাসহ র্যাবের হাতে আটক হয়েছে সন্ত্রসী রানা। পল্টন থানার মাদক মামলায় সে ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী। তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। সেও পল্টন কিংবা মতিঝিল থানার শীর্ষ পদে আসতে চায়। মতিঝিল, পল্টন এলাকার বাণিজ্যিক নিয়ন্ত্রণ, ক্লাব পাড়া নিয়ন্ত্রণ নিতেই তিনি দলের পদে আসতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন।
নিউজ/এম.এস.এম