মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গু/লিতে নি/হ/ত বাংলাদেশি যুবকের লা/শ ৩৯ ঘন্টা পর হস্তান্তর সিলেট থেকে শীঘ্রই চালু হচ্ছে সালাম এয়ারলাইন্স শ্রীমঙ্গলে চক্ষু শিবির ও শিক্ষক সম্মাননা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তোমাদের হাতেই: এসএসসি শিক্ষার্থীদের নাসের রহমান এমপি সৌদি আরবের অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে আসবে যে কোন সময় মারুফ সাত্তার আলী প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত ডিডাফের উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের সৃজনশীল শিল্পকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিস্তৃতভাবে উপস্থাপনের অঙ্গীকার আজ প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাচ্ছেন মৌলভীবাজারে বিএসএফের গুলিতে এক চোরাকারবারী নিহত

সুজনের সাংবাদিক সম্মেলন ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : বুধবার, ২ নভেম্বর, ২০২২
  • ২১৪ এই পর্যন্ত দেখেছেন

দেওয়ান ফয়ছলঃ বুধবার (২রা নভেম্বর) ”বর্তমানে আমাদের তিন সংকট’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায়। সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার এই তিন সংকটের কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, প্রথমটি হলো অর্থনৈতিক সংকট। অপর দু’টি হলো কার্য্যকর গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি ও সুশাসনের অভাব। তিনি আরও বলেন তিনটি সংকট একই সূত্রে গাঁথা”। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংকট দূর না করলে অর্থনৈতিক দূরবস্থাও কাটবে না।

ড. বদিউল আলম মজুমদার সুজনের পক্ষে ২১ দফা রাজনৈতিক সংস্কার প্রস্তাবও উত্থাপন করেন। গতকাল সুজনের উদ্যোগে “অর্থনৈতিক সংকট নিরসনের পূর্বশর্ত রাজনৈতিক সংস্কার” শীর্ষক একটি অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সুজন সহসভাপতি সাবেক বিচারপতি এম এম মতিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করে ড. বদিউল আলম মজুমদার। সুজন নেতাদের মধ্যে নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. আহসান এইচ মনসুর, ড. তোফায়েল আহমেদ, জাতীয় কমিটির সদস্য একরাম হোসেন প্রমুখ যুক্ত ছিলেন। সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, গণতন্ত্রের প্রধানতম অনুষঙ্গ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। এদিকে ড. তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, রাজনৈতিক সংস্কার ছাড়া বাংলাদেশে কোনো অর্থনৈতিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের দু’টি রাজনৈতিক দলের জনসমর্থন প্রায় সমান, তাই সমঝোতা না হলে আমাদের অনেক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার আশংকা আছে। এ সব সংকট দূরীকরনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা এখন সময়ের দাবি।

সুজন বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবি মহলের একটি সংগঠন। এই সংগঠনের বুদ্ধিজীবিরা যদি তাদের বুদ্ধিকে সঠিক পথে কাজে লাগাতেন সত্যিকার ভাবে, তারা দেশের কল্যানে, সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে তাহলে আমার মনে হয়, দেশে আজ এই অবস্থার সৃষ্টি হতো না।

বাংলাদেশের বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার যখন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনার লক্ষ্যে দেশের সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে সংলাপে বসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলো, তখন বিএনপি ও তাদের অঙ্গ সংগঠনগুলো ছাড়া বলতে গেলে সব দলই সংলাপে অংশ গ্রহণ করে।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যক্তিগত ভাবে তাদের সাথে সংলাপে সবার জন্য আমন্ত্রণ জানালেন এবং ভদ্রতার খাতিরে এও বললেন, আপনারা আসুন, আমরা এক সাথে বসে চা পান করে করে কথা বলবো। এর চেয়ে আন্তরিক ভাবে আমন্ত্রণ আর কি ভাবে জানানো যায়?

বিএনপি নেতারা একটাই স্দ্ধিান্ত দিলো আমরা এ সরকারের সাথে আলোচনায় বসবো না। এ সরকারকে ক্ষমতা থেকে হঠাতে হবে! কি আশ্চর্য্য, তাদের উচিৎ ছিলো প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনায় বসে তাদের দাবি-দাওয়া পেশ করা এ নিয়ে বিশদ আলোচনা করা। এরপর যদি প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা ব্যর্থ হতো, তা হলে দেশের জনগণ বলতো বিএনপি সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে। এই অবস্থা যখন চলছিলো, তখন সুজনের বুদ্ধিজীবিরা কোথায় ছিলেন?

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, তখন তারাই বিএনপি’কে এই সংঘাতের পথে ঠেলে দিয়েছেন। সুতরাং বর্তমানে দেশে যে অরাজকতা, দাঙ্গা হাঙ্গামা শুরু হয়েছে এর দায়িত্ব কি একা বিএনপি’র না সুজনের বুদ্ধিজীবিদেরও তা দেশের জনগণ জানতে চায়।

তাদের যদি দেশের প্রতি মমতাবোধ থাকতো তাহলে তারা শুধুমাত্র বিএনপি’র পক্ষ না নিয়ে বরং উভয় পক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতার পথ খুঁজে বের করতে পারতেন, হয়তো উভয় দলই তা মেনে নিতো। সুন্দর এবং সুষ্ঠুভাবে আগামী নির্বচিন অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু সেই কাজটি করতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন তার কারণ হচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্য সৎ নয়।

ড. তোয়ায়েল আহমেদ বলেছেন, রাজনৈতিক সংস্কার ছাড়া বাংলাদেশে কোনো অর্থনৈতিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের দু’টি রাজনৈতিক দলের জনসমর্থন প্রায় সমান, তাই সমঝোতা না হলে আমাদের অনেক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার আশংকা আছে। এ সব সংকট দূরীকরনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা এখন সময়ের দাবি।

এ কথা থেকে বোঝা যায়, তারা যখন দেখবেন তাদের সমর্থিত বিএনপি নির্বাচনে কোনঠাসা হয়ে যাবে, তখন তারা বিএনপি’কে সরকারের সাথে একটি সমঝোতায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার জন্য বিএনপি’কে রাজি করাতে চেষ্টা করবেন। যদি তাদের সেই চিন্তাধারা থাকে, তা হলে তা কি বেশি দেরী হয়ে যাবে না?

এছাড়াও সুজনের দেয়া ২১ দফা রাজনৈতিক প্রস্তাবের মধ্যে গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক দল এর কথাও রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি’র শাসনামলে গণতন্ত্রের একটি চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

প্রধানমন্ত্রী তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের গণতন্ত্রের নমুনা ছিলো বিরোধী দলের উপর অত্যাচার, নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানো। তাদের আমলে বিরোধী দল আওয়ামী লীগের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে লাঠিচার্জ ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে পন্ড করে দেয়া হতো।

জয় বলেন, ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের ওপর ব্যাপকহারে নির্যাতন ও নিপীড়ন চালায়। ঐ সময় পুলিশের টিয়ার শেলের আঘাতে আহত হন মতিয়া চৌধুরী, সেগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, মারিয়া, লিপি, শিখা হেলেন, মেয়র হানিফ, মোখরুসুর রহমান, আব্দুস সাত্তার সহ ২০ জন নেতা কর্মী।

অত্যন্ত দু:খের বিষয় এই যে, খালেদা জিয়ার ১০ বছরের শাসনামলে কয়েকটি অমানবিকতার ইতিহাস এখানে তুলে ধরা দরকার বলে মনে করছি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, ২০০৪ সালের ২১ আগষ্টের গ্রেনেড হামলা সুস্পষ্ট ভাবে ছিলো বিএনপি-জামায়াতের এক মাষ্টার প্লান। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূণ্য করা এবং শেখ হাসিনাকে চিরতরে শেষ করে দেওয়ার জন্য গ্রেনেড হামলার এই ঘৃণ্য ঘটনা ঘটানো হয়েছিলো, যা আদালতের রায়ে প্রমাণিত।

খালেদা জিয়া তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আদালতের রায়ে দেখা যায়, রাষ্ট্রের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করা হয়েছিলো সে সময়। খালেদা জিয়া এই গ্রেনেড হামলার পর ন্যূনতম দু:খ প্রকাশ করেন নি বরং তিনি তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা ”ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে গিয়েছিলেন” এমন উদ্ভট, অমানবিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেছিলেন।

এছাড়াও বাংলাদেশে মানবতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হওয়া দেশ বিরোধী সংগঠন জামায়াত এবং দলের নেতাদেরকে পাশে নিয়েই ২০০১ এর মন্ত্রী সভায় বসেন খালেদা জিয়া। রাজাকার মতিউর রহমান নিজামী এবং রাজাকার আলী আহসান মুজাহিদের মতো নরঘাতকদেরকে মন্ত্রী বানানো ছিলো মানবতার বিরুদ্ধে এক ধরণের অপরাধ।

এখানেই শেষ নয়, জাতির পিতার হত্যাকারীদের কুটনৈতিক চাকরী দিয়ে পুরো জাতিকে কলঙ্কিত করেছিলেন খালেদা জিয়ার স্বামী জিয়াউর রহমান। আর সেই কলঙ্কের ধারা অব্যাহত রেখেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া স্বয়ং। তিনি কেবল খুনীদের চাকরি বহাল রাখেননি বরং তাদেরকে পদোন্নতিও দিয়েছেন। এর বেশী আর উদাহরন দেয়ার দরকার আছে বলে আমি মনে করিনা, কেননা আমাদের এই বুদ্ধিজীবী মহলের এসব খবর তাদের নখদর্পনে।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের মানুষ যাতে সুখে শান্তিতে থাকতে পারে, ব্যবসা বানিজ্য করতে পারে, ভালো চাকরী করতে পারে, ভালো রোজগার করে পরিবার নিয়ে শান্তিতে থাকতে পারে সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। এ লক্ষ্য সামনে রেখে প্রথমেই যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর গুরুতা¡রোপ করেছেন।

পদ্মা সেতু সহ বড় বড় বিভিন্ন নদীর উপর সেতু নির্মাণ করে সারা বাংলাদেশের একা কোণা থেকে অন্য কোণার মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা যেমন সহজতর করেছেন তেমনি ব্যবসা বানিজ্যের ক্ষেত্রেও জনগণের জন্য কল্যান বয়ে আনছে। কর্ণফুলি টানেল চালু হয়ে গেলে চট্টগ্রামের সাথেও ঢাকার যোগাযোগ এবং” ব্যবসা বানিজ্যের ক্ষেত্র আরও উন্নত হবে।

এসব দেখে তাদের গা জ্বালা করছে, তাই তাদের একমাত্র চেষ্টাই হচ্ছে কি ভাবে এ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো যায়। এ লক্ষেই স্বাধীনতা বিরোধীরা একজোট হয়ে কাজ করছে। আওয়ামী লীগ জনগণের দল, সুতরাং যে যাই করুক কোনো লাভ হবে না। জনগণ সব সময়ই আওয়ামী লীগের পাশে আছে এবং থাকবে, সামনের নির্বাচনেই তা প্রমাণিত হবে।

এখন বাংলাদেশের জনগণের মনে স্বভাবত:ই প্রশ্ন জাগতে পারে, এসব বুদ্ধিজীবীদের বিএনপি’র শাসনামলের ঘৃণ্যতম এসব খবর জানা সত্বেও তাদের প্রতি এত মায়াকান্না কেন? উত্তর একটাই, বাংলাদেশ একটি স্বনির্ভর দেশে পরিণত হয়ে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলুক, বাংলাদেশের মানুষ সুখে-স্বাচ্ছন্দে থাকুক তা তারা চায়না। সুতরাং তারা কে, বাংলাদেশের মানুষ ভলো করেই বুঝে।

লেখকঃ দেওয়ান রফিকুল হায়দার (ফয়ছল), কলামিষ্ট, সিনিয়র সাংবাদিক ও সদস্য লন্ডন বাংলা প্রেসক্নাব

 

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © ukbdtv.com
       
themesba-lates1749691102