মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হাসিনাকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অর্থহীন: নাহিদ ইসলাম ইরানের হামলার ভয়ে গোপনে ট্রাকে লুকিয়ে যেভাবে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প সরকারের ৬ মাসের অর্জন-সীমাবদ্ধতা জনতার কাছে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গু/লিতে নি/হ/ত বাংলাদেশি যুবকের লা/শ ৩৯ ঘন্টা পর হস্তান্তর সিলেট থেকে শীঘ্রই চালু হচ্ছে সালাম এয়ারলাইন্স শ্রীমঙ্গলে চক্ষু শিবির ও শিক্ষক সম্মাননা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তোমাদের হাতেই: এসএসসি শিক্ষার্থীদের নাসের রহমান এমপি সৌদি আরবের অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে আসবে যে কোন সময় মারুফ সাত্তার আলী প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত ডিডাফের উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশে সংকটের আগেই প্রতিরোধ শুরু

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১২ মে, ২০২২
  • ৩০৫ এই পর্যন্ত দেখেছেন

স্টাফ  রিপোর্টার: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ডলারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। যার খেসারত দিচ্ছে কলম্বো। ঢাকায় ডলারের বিপরীতে টাকার মানও কমে গেছে। যার কারণে আমদানি ব্যয় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এরফলে মাত্র পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা রয়েছে সরকারের কাছে।

অথচ কয়েকমাস আগেও ভান্ডারে ৯ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা ছিল। এমন পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার ‘সঞ্চিতি’ বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি ডলারেরও মজুতও ধরে রাখতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যে কারণে বেসরকারিখাতে পণ্য আমদানিতে লাগাম টানার পাশাপাশি ব্যয় সাশ্রয়ের খাঁড়া এবার পড়েছে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের উপর। সবমিলিয়ে অর্থনীতিতে ধেয়ে আসা সংকটের প্রতিরোধ শুরু করেছে সরকার।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বৈশ্বিক এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বৈদেশির মুদ্রার রিজার্ভ। এটি থাকলে যত সংকটই আসুক না কেন, সেটি এত ভয়াবহ হবে না এবং মূল্যস্ফীতিও সহনীয় পর্যায়ে রাখা যাবে। তাদের মতে, বিদেশ সফরে সাধারণত টাকার বিপরীতে ডলার ব্যবহার হয়। সুতরাং এই সংকটময় পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হিসেবে খরচ করে ডলারের মজুত কমাতে চায় না সরকার।

যে কারণে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানিতে ৭৫ শতাংশ নগদ মার্জিন নির্ধারণ করে দিয়েছে। এছাড়াও শিশুখাদ্য, ওষুধ নির্ভর কিছু অতি প্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। স্বস্তির বিষয় হচ্ছে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ৩০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। সেইসঙ্গে স্বাভাবিক রয়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। সরকার এই প্রবাহ দিয়ে সংকট উতরে যেতে চায়।

বৃহস্পতিবার সরকারি এক আদেশে পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় সব ধরনের বৈদেশিক ভ্রমণ সীমিত করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ শওকত উল্লাহ স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত সব প্রকার এক্সপোজার ভিজিট/স্টাডি ট্যুর/এপিএ ও ইনোভেশনের আওতাভুক্ত ভ্রমণ এবং ওয়ার্কশপ/সেমিনানে অংশগ্রহণসহ সব প্রকাশ বৈদেশিক ভ্রমণ বন্ধ থাকবে।

এ আদেশ উন্নয়ন বাজেট ও পরিচালন বাজেট উভয় ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানানোর একদিন বাদেই অর্থ বিভাগ থেকে এই পরিপত্র হল। ব্যয় সঙ্কোচনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বুধবার বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, এখন থেকে কোনো প্রয়োজন না থাকলে বিদেশ সফর আর নয়। যদি কোনো বিশেষ প্রয়োজন হয়, তাহলে তারা যাবেন, অন্যথায় কেউ যাবেন না।

এক দিন আগেই (বুধবার দুপুরে) ভার্চুয়ালি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছিলেন, বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিদেশ যেতে পারবেন না।

সরকারের ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেয়ার পর সরকারি কর্মকর্তাদের অহেতুক বিদেশ সফর বেড়ে গেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বিশেষ কোনো প্রয়োজন ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে অনুমতি দেয়া যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সরকারি কর্মকর্তাদের এখন থেকে বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি দেয়া হবে না।

তবে বিশেষ কোনো প্রয়োজন হলে অনুমতিসাপেক্ষে বিদেশ যেতে পারবেন। এখন যারা বিদেশ যাচ্ছেন, তাদের আগেই অনুমতি দেয়া হয়েছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নতুন করে কাউকে অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর বন্ধ ও কম গুরুত্বপূর্ণ আমদানিনির্ভর প্রকল্পের বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সময়ে সময়ে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কঠিন সিদ্ধান্তে নিতে হয়। আমরা এত দিন যেভাবে চলছিলাম, সারা বিশ্বের যে অবস্থা তাতে লাগাম টেনে ধরতে হচ্ছে।

সারা বিশ্বে করোনা পরিস্থিতির উন্নতির পর জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি একটি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। আগের চেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হওয়ায় দেশে রিজার্ভে টান পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিলাসদ্রব্যের আমদানি কমাতে চাইছে সরকার।

গত বছর দেশের রিজার্ভ একপর্যায়ে ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলেও রিজার্ভের বর্তমান অবস্থান গত দেড় বছরের সর্বনিম্ন। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মার্চ-এপ্রিল মেয়াদের দেনা পরিশোধের পর রিজার্ভের অবস্থান এখন ৪১ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার।

এর চেয়ে কম ৪১ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ ছিল ২০২০ সালের নভেম্বরে। এই অবস্থায় আমদানিনির্ভর কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকারি চাকুরেদের বিদেশ সফর বন্ধও এর অংশ। সূত্র: ভোরের কাগজ।

ইউকেবিডিটিভি/বিডি/এমএসএম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © ukbdtv.com
       
themesba-lates1749691102