সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ডিডাফের উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের সৃজনশীল শিল্পকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিস্তৃতভাবে উপস্থাপনের অঙ্গীকার আজ প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাচ্ছেন মৌলভীবাজারে বিএসএফের গুলিতে এক চোরাকারবারী নিহত বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র বানানো আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ: পর্যটনমন্ত্রী তারেক রহমানকে যেভাবে জেআইসিতে নির্যাতন করা হয় আমরা যেন সোনার খনির ওপর বসে আছি, অথচ চামচ দিয়ে খনন করছি: বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এমপি নাসের রহমানের অশ্লীল ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে সাভার থেকে গ্রেপ্তার-১ দলকে সুসংগঠিত ও জনমুখী করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান-এমপি মুজিব এমপি নাসের রহমানের এআই তৈরী অশ্লীল ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে ঢাকা থেকে আ/সামি গ্রে/প্তা/র

কলাগাছের তন্তু থেকে পরিবেশ বান্ধব পলিথিন তৈরী করে চমক সৃষ্টি করেছে সাজ্জাদুল

মোঃ কাওছার ইকবাল, শ্রীমঙ্গল
  • খবর আপডেট সময় : সোমবার, ২০ মে, ২০২৪
  • ২৮৯ এই পর্যন্ত দেখেছেন

কলা গাছের তন্তু থেকে প্লাস্টিক, কার্বন ও সিলিকন পণ্যের বিকল্প ব্যবহারযোগ্য পরিবেশ-বান্ধব পণ্য তৈরির ফরমুলা আবিষ্কার করে রীতিমতো সারা ফেলে দিয়েছে শ্রীমঙ্গলের কৃষক পরিবারের সন্তান ক্ষুদে বিজ্ঞানী সাজ্জাদুল ইসলাম । একই সাথে সে পচা বা অব্যবহৃত সবজীর শ্বেতসার থেকে তৈরি করেছে পচনযোগ্য পলিথিন। তার দাবি এটি পরিবেশ-বান্ধব এবং অনেকটা সাশ্রয়ী।

শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাজ্জাদুল জানায়, শুধু প্লাস্টিকের আসবাবপত্র নয় তার আবিষ্কৃত কাঁচামাল দিয়ে টাইলস, কার্বন ও সিলিকনে তৈরি, টিন ও কার্বনের তৈরি মোটরযানের যন্ত্রাংশের বিকল্প হিসেবে কলাগাছের তন্তু ব্যবহার করা সম্ভব। এমনকি এটি দিয়ে বুলেট প্রুফ দরজা জানালাও তৈরি করা সম্ভব।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোণ ইউনিয়নের  মোহাজেরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা গৃহিণী সাহেরা বেগম ও কৃষক মোঃ নজরুল ইসলামের গর্বীত সন্তান সাজ্জাদুল ইসলাম জানায়, কলাগাছের তন্তু থেকে তৈরি এই কঠিন যৌগ তৈরি করতে তার সর্বোচ্চ ৬৫ ভাগ তন্তুর সাথে রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রণ করতে হবে। সে জানায়, তার তৈরি টাইলসের ওজন পায় ৩০০ গ্রাম। যার মধ্যে ২০০ গ্রাম কলাগাছের তন্তু, হার্ডনার ৬০ গ্রাম ও পলিপ্রপিলিন ৪০। পলিপ্রপিলিন ব্যবহার করার কারণে দীর্ঘদিন এটিকে পচন থেকে রোধ করবে এবং হার্ডনার পলিপ্রপিলিনের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

তার আবিস্কৃত প্লাস্টিক পণ্য উচ্চ তাপে গলিয়ে সহযেই রাসায়নিক দ্রব্য ও কলাগাছের তন্তু আলাদা করা য়ায়। আর সবজির শ্বেতসার থেকে তৈরি পলিথিন মাটিতে ১ মাসে ও পানিতে ৩ মাসে পচে যাবে। যা মাটির জন্য হবে জৈব সার ও পানিতে হবে মৎস্য-খাদ্য।

পরিবেশ-বান্ধব পলিথিনের জন্য সে ব্যবহার করে বাজারের পরিত্যাক্ত সবজি থেকে সংগ্রহকৃত শ্বেত সার, অ্যাসিটিক এসিড ও গ্লিসারল। মোট দ্রবণের ২৫ শতাংশ গ্লিসারল, ২৫ শতাংশ এসিটিক এসিড ও ২৫/৩০  শতাংশ পানি ও বাকিটা সবজির শ্বেতসার।

উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে সাজ্জাদুল “বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা-২০২৪” এ মৌলভীবাজার জেলা পর্যায়ে বছরের সেরা মেধাবী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। সে জানায়, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সে তার গবেষণা আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।

শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক হৃদয় কুমার ভৌমিক জানান, সাজ্জাদুল  কলাগাছের সেলুলোজ সমৃদ্ধ তন্তু এর হাইডোঅক্সাইড ও রেজিন ব্যবহার করে একটুকরো টাইলস তৈরি করে এবং আলুর শ্বেতসার থেকে পলিথিন তৈরি করে এনে দেখায়। পরে আমরা কলেজের ল্যাবে তাকে এটি করে দেখানোর আহ্বান জানালে, কলেজের ল্যাবে এই দুই পণ্য তৈরি করে। এ সময় অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও তা স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ করে। তিনি বলেন, সে যে কাঁচামাল ব্যবহার করেছে তা পরিবেশের ভারসাম্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আরও অধিক গবেষণায় এটি ভালো কোনো আবিস্কার হতে পারে বলে মতামত ব্যক্ত করেন।

কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বিজন চন্দ্র দেবনাথ জানান, যেহেতু এর প্রধান কাঁচামাল কলাগাছ থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং কলাগাছ সহজলভ্য তাই এটির ব্যবহারে গ্লাস ফাইবার ও কার্বন ফাইবারের প্রয়োগ কমবে। এতে পরিবেশের উপর অপচনশীল প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার কমবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রতি বছর প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার ফল ও সবজি অপচয় হয়। এই অপচয়কৃত শস্য থেকে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার যোগ্য  পণ্য তৈরি করা হলে পরিবেশ দূষণ রোধের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে আসতে পারে বড় একটা পরিবর্তন। আর কলাগাছ যেহেতু একবার ফল দেয়ার পর কেটে ফেলা হয়, তাই কৃষককের কাছ থেকে অল্প মুল্যে তা সংগ্রহ করে এর দ্বারা প্লাস্টিক, কার্বন ও সিলিকন পণ্যের বিকল্প হিসেবে পরিবেশ-বান্ধব ব্যবহারযোগ্য পণ্য তৈরি করা সম্ভব।

সাজ্জাদুলের বাবা একজন দরিদ্র কৃষক। তার বাবার পক্ষে তার গবেষণার খরচ চালানো সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক কারণে তার সামনের দিকে এগুনো হচ্ছে না। এই মেধাবী ক্ষুদে বিজ্ঞানীর অগ্রযাত্রায় সরকার বা প্রতিষ্টান পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসলে তার দ্বারা আরো ভালো কিছু আবিষ্কার করা সম্ভব হবে বলে আশা করেন তার শিক্ষকরা।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © ukbdtv.com
       
themesba-lates1749691102