সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ডিডাফের উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের সৃজনশীল শিল্পকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিস্তৃতভাবে উপস্থাপনের অঙ্গীকার আজ প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাচ্ছেন মৌলভীবাজারে বিএসএফের গুলিতে এক চোরাকারবারী নিহত বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র বানানো আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ: পর্যটনমন্ত্রী তারেক রহমানকে যেভাবে জেআইসিতে নির্যাতন করা হয় আমরা যেন সোনার খনির ওপর বসে আছি, অথচ চামচ দিয়ে খনন করছি: বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এমপি নাসের রহমানের অশ্লীল ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে সাভার থেকে গ্রেপ্তার-১ দলকে সুসংগঠিত ও জনমুখী করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান-এমপি মুজিব এমপি নাসের রহমানের এআই তৈরী অশ্লীল ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে ঢাকা থেকে আ/সামি গ্রে/প্তা/র

মৌসুমের প্রথম চা নিলাম শ্রীমঙ্গলে অনুষ্ঠিত

মোঃ কাওছার ইকবাল, শ্রীমঙ্গল
  • খবর আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২ মে, ২০২৪
  • ১৮৯ এই পর্যন্ত দেখেছেন

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল চা নিলাম কেন্দ্রে দেশের শীর্ষস্থানীয় বায়ার এবং ব্লেন্ডারদের অংশগ্রহণ ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছে মৌসুমের প্রথম চা নিলাম। চা বোর্ড নির্ধারিত সর্বনিম্ন মূল্যে এই চা নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। সর্বোচ্চ ৬১০ টাকা কেজিতে লোহানী চা বাগানের চা পাতা বিক্রি হয় এবং একই বাগানের গ্রীন টি বিক্রি হয়েছে ১২ শত টাকা কেজিতে।

আজ (২ মে) সকালে শ্রীমঙ্গল জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে শ্রীমঙ্গল চা নিলাম কেন্দ্রের এ মৌসুমের প্রথম চা নিলাম হয়। মৌসুমের প্রথম চা নিলামের উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোঃ আশরাফুল ইসলাম এনডিসি, পিএসসি। তিনি চা নিলাম কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করেন। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিটিআরআই এর  পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক ড. রফিকুল ইসলামসহ টি বোর্ডের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ, টিপিটিএবির সহসভাপতি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী হারুনসহ অন্যান্য পরিচালকবৃন্দ এবং এলাকার চা ব্যবসায়ীরা। এসময় চা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হয়।

ফাইল ছবি

শ্রীমঙ্গলে মৌসুমের প্রথম এই নিলামেও অনুপস্থিত থাকেন দেশের শীর্ষস্থানীয় বায়ার ও ব্লেন্ডাররা। এছাড়া প্রথম শ্রেণির ব্রোকার্সরাও পূর্বে থেকেই শ্রীমঙ্গলের নিলাম কেন্দ্র থেকে তাদের সরিয়ে নিয়েছে। এমনকি জেলার শীর্ষ চা কোম্পানি ও মালিকরাও এই নিলামে চা বিক্রি থেকে বিরত রয়েছেন। তাদের এই অব্যাহত অনুপস্থিতি ও লাগাতার অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকায় স্থানীয় নিলামের আয়োজকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ফলে শ্রীমঙ্গলের এই নিলাম কেন্দ্রটি কাগজে কলমে আন্তর্জাতিক নিলাম কেন্দ্র হলেও বড় বড় বায়ার, ব্লেন্ডারদের ও ব্রোকার্সদের অনুপস্থিতির কারণে এটি একটি আঞ্চলিক নিলাম কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে বলে চা সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন। এর ফলে এর ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, বায়াররা যেখানেই তাদের চাহিদা মোতাবেক চা পাতা পাবেন সেখানেই নিলামে অংশগ্রহণ করবেন। তারা তাদের লাভ লোকসান হিসাব করেই নিলামে অংশগ্রহণ করবে। সেটা শ্রীমঙ্গলেই হোক, পঞ্চগড়েই হোক বা চট্টগ্রামেই হোক। এজন্য নিলাম আয়োজকদের আরও সক্ষমতা অর্জন করতে হবে, বিশেষ করে স্থানীয় ব্রোকার্সদের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। এব্যাপারে আমাদের আদেশ, নির্দেশনা ও পরামর্শ রয়েছে। আমরা আমাদের সর্বাত্বক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবো ইনশাআল্লাহ।

উল্লেখ্য, ‘শ্রীমঙ্গল চা নিলাম কেন্দ্র হচ্ছে দেশের দ্বিতীয় চা নিলাম কেন্দ্র, যা মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় অবস্থিত। ২০১৭ সালের ৮ই ডিসেম্বর তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নিলাম কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন। কিন্তু নানান জটিলতার কারণে সেটি তখন চালু হয়নি। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১৪ মে চা নিলাম অনুষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে শ্রীমঙ্গলে দেশের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক চা নিলাম কেন্দ্রের কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

তিনটি ব্রোকার হাউসের মাধ্যমে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন বাগানের প্রায় ৮৪ হাজার কেজি চা আজকের নিলামে নিলামে তোলা হয়। লিকার রেটিংয়ের ওপর ভিত্তি করে নিলামে তোলা চায়ের গ্রেড ভাগ করে সর্বনিম্ন মূল্য ১৬০ টাকা কেজি নির্ধারণ করা হয়েছে। টি বোর্ড কর্তৃক সর্বনিম্ন দর নির্ধারন করে দেয়ায় আশাবাদী ব্রোকার হাউস প্রতিনিধিরা। এতে খুশি চা বাগান ও নিলাম-সংশ্লিষ্টরা।

নিলামের ফাইল ছবি

২০২৩ সালে দেশের চা বাগানগুলো উৎপাদনে রেকর্ড করলেও নিলামে ব্যাপক দরপতনে বাগান মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ শিল্পের সুরক্ষায় উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে চায়ের নিলাম দর নির্ধারণ করে দেয় চা বোর্ড। এতে বাগান মালিকরা আনন্দিত। তবে কিছু বায়ার মনে করেন দর অপেন থাকলে ভালো হতো।

নিলামে চায়ের দরপতন নিয়ন্ত্রণে এ পদক্ষেপ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদী টি বোর্ড চেয়ারম্যান। এ সময় তিনি বলেন চায়ের গুনগতমান ও রপ্তানী বৃদ্ধি এবং ভাল মানের চায়ের ন্যায্য মূল্য যাতে বাগান মালিকরা পেতে পারেন সেজন্য পরীক্ষামূলক ভাবে সর্বনিন্ম মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া হযেছে। সকলের সহযোগীতায় চায়ের অতীত গৌরব ফিরে আসবে বলে মনে করেন তিনি।

 চা বোর্ড ২০২৪-২০২৫ চা অর্থ বছরে পরীক্ষামূলকভাবে ২০টি নিলামে ফ্লোরপ্রাইস রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © ukbdtv.com
       
themesba-lates1749691102