


অস্বীকার তো করিনি তোকে
একটা ছায়ার উপর দাঁড়িয়ে মনে হল যেন আমিও কৃপাপদহীন ; অশরীরী ! কবেকার মনটুকু জটিল সময়ের ভেতর দিয়ে থেকে থেকে ভুলে গেছে নিজেকে নিজেই ,—– এই মন দেহশূন্য নামগোত্রহীন অপ্রমেয় বিদেহী !
তুই অস্বীকার করলেও , না করলেও আমি প্রাচীন ভাষ্কর্যের মত এভাবেই একা ও একক রোদ বৃষ্টিতে নিঃসঙ্গ ! মন খারাপের গন্ধে নির্ঘুমে একাই থেকেছি স্মৃতিবাস সম্মেলিত ; এই নৈমিত্তিক কারণে তোকে ছুঁয়ে দেখার সামর্থ্য হয় নি একবারও ….. তবুও এই প্রেমগুলোতে তুই-ই যেন কুয়াশা মেখে অস্পষ্ট ভাসমান এখন !
কবিতার পাতায় পাতায় বুদ্ধিদীপ্তা সুন্দরি তুই , এটা যেন আমার নিঃশব্দে বলে ফেলা কাঙালপনা ; তাই না রে ?
সেবার হঠাৎ বৃষ্টিতে বুকে জ্বলছিল অহংকার ; অন্য এক স্বপ্নের কাছে তুই ও পলাশ রঙা হাসি ছড়িয়ে বিক্রি করছিলি তোর আনন্দ – সুখ ; আরও কত কি ! আমি তখন কতকালের শ্মশানে একা এভাবেই পুড়ছিলাম ; সেই দেখে দেখে !
এই একটাই দেওয়ালহীন ঘর ; আশ্চর্য রকম বৈরাগ্যে অনেকটাই রূপকথার মত ! এখানে এই ঘরে তোর শ্বাস – প্রশ্বাস একদিন ছিল ভীষণ অলিখিত সর্তহীন ….. অথচ এখন এই ঘরটা নেটওয়ার্ক ছাড়া বেমালুম নিরবতায় আহত বিষাদাকীর্ণ তুইহীন নিঃশব্দ ; নির্জন !
কিছু কিছু নির্জনতা নির্ধারিত স্তব্ধ ; একেবাকেই কথাহীন ৷ নতুবা প্রেমের কাছে অনেকটাই অহর্নিশ কৃতদাশ ! অন্তর্দহনে দগ্ধে দগ্ধে না মরেও মৃত চিরকাল ,—- যদিও কবিতার কাছে কতবার তোর জন্যে ক্ষমাও চেয়েছি হৃদয় শূন্য করে ; কতবার এই ঘরের বিছানা চাদর পুড়েছে অমনষ্কে সিগারেটের আগুনে , একমাত্র তোকে মনে করে ! স্নায়ুতে মায়াবন্ধনী তুই ; এই অবধারিত মন কষ্ট এক মূহুর্ত বিশ্রাম দেয়নি আমাকে ….. অথচ বহু দূর থেকে একই পথ ধরে চলতে চলতে গাছবৃষ্টি চোখের পাতা ভিজিয়ে ছিল ; সেটা একমাত্র তোরই জন্য হে প্রেম !
মৃত্যু মৃত্যু স্বপ্নগুলো জীবন্ত ফসিল ; এই প্রবাহমান সৃজন কষ্ট গুলো ইচ্ছানুযায়ী মরে ও বাঁচে এটা একমাত্র তোরই জন্য হে প্রেম , প্রিয় নারী ! অশরীর ভালোবাসা!!
_________________________________
পোশাকি প্রেম এবং মৃত্যু
ঘুমের দরজায় লাথি মারে সমৃতি ৷ সেই যে বহুকালের প্রিয় স্বপ্নগুলো ঘুমালো ; চোখের সম্মোহনে অন্তর হয়েছে পাথর ,—– তালাবন্ধ প্রেম এভাবেই বসিয়েছে পোশাকি কবিতার হাট !
এই যে অন্য এক অচেনা ছায়ার পাশে পাশে হৃৎপিন্ড হাঁটে মার খাওয়া মানুষের দেশে ,—–
ধনুকের মতো বেঁকে যায় প্রেমিকের প্রার্থনা ; তবে কি এ’সময়টা ঝুটো ? হয়তো হবে …..
দশদিক থেকে মৃত্যুর বিলাপ শুনি ! প্রত্যন্ত ভেতর দিয়ে স্বপ্ন শ্মশান হাতছানি দেয় , …..
কবিবাবু প্রবেশ নিষেধ ; ভিতরে অনিদ্রিত লাথ খাওয়া এক প্রেমিকের বক্তৃতা চলছে ! তবুও ঘুমের মধ্যে ঘুম নিয়ে রসিকতা চলে ,….
কেউ অকস্মাৎ সদোর দরজায় কড়া নেড়ে সুখ ভিক্ষা করে ; ছদ্মবেশে !
লাথি খাবার প্রকৃত ভিক্ষুক আসলে আমিও ! মজার মানুষ খায় প্রতিপলে লাথি ; চারপাশ ঘুটঘুটে আধাঁর , ভিতরে মৃত প্রজাপতি !
ভাবছি ; স্তব্ধ উচ্চারণগুলি মৃত মানুষের পড়ে থাকা শোকের কাছে রেখে চিতায় ওঠার আগেই নবনীতাকে বলব ; আমার বালিশের নীচে শ্মশান খরচটাও রাখা আছে , …..
এবার নিশ্চিন্তে কেঁদো !!
____________________
দীর্ঘ কবিতা :~
স্বপ্নদোষের স্মৃতিমন, এবং অন্য রসায়ন
ক ) প্রকারান্তরে আমিও নির্ঘুম বহুকাল
ভেতরে – ভেতরে যন্ত্রণায় ছিন্নভিন্ন প্রতিদিনের চুপ সাদা রাত ;
আমিও আকাশ পাড়ে ডানা মেলে উড়ে গেছি বহুযুগ আগে …….
সেখানে আঁধার আঁকা ছবি গুলো নীরবতা নিয়ে
মুখ খাপাপ করেছে নিজে-নিজে !
প্রকারান্তরে ;
এই বেশ ভালো থাকা, কিম্বা অতলে হৃদয় ছিড়ে মন্দ হয়ে থাকা
তবুও কী এক অস্থিরতা ও কামপ্রবাহ চলে ভেতরে-গভীরে ।
এইখানে প্রতিদিন আমি ভিজে উঠি একমাত্র কবিতার কারণে
একান্নটা চুমু খেতে খেতে খেতে রোজ রোজ ধ্যানস্বপ্নে
আমি হই অলস উলঙ্গ ;
তবুও বিষের মধ্যে জ্বলে ওঠে মহাকালের সমস্ত — সময় !
কী এক ডানার দাপোটে আকাশ-ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বোঝেনি,
অথচ এইভাবে কেউ কেউ নিজের মধ্যে মরে গেছে ভীষণ একা একা !
খ ) চোখ বন্ধ হৃদয়ে স্বপ্নহীন আমিও-তো আছি
শরীর থেকে সমস্ত তাপ ও প্রভুত নষ্ট ইচ্ছাগুলো
ইচ্ছেমতো ছুঁতে চায় রুলুম-কুমারীর স্তন-নাভী-যৌন গোলোক ……
তনু মেলা রাত থেকে সমস্ত স্বপ্নের সিঁড়ি উঠে আসে
আমার বিছানায় ****
মাঝেমধ্যে কোথাও কোনোখামে হীমপ্রবাহ চলে নিঃশব্দে,
নাভীর নিচে নগ্নতা ভরা আলো, — ওখানে রোজ প্রতিদিন
আমি পুড়ে ছাই হয়ে যাই ****
একশো-টা বছর ধরে একই ভাবে একাকার আমি ও তুমি
অথচ শরীরহীন নিঃশর্ত মৈথুন ভাসিয়েছে আমাকে একটু বেশি !
কোথাকার রাত জলে ডুবে যায় ঘুমপাড়ানি মালি-পিসি ;
চাঁদ নিয়ে খেলা শুরু হয় তোমার শরীরের প্রতিটা রাস্তায় —
মাঝেমধ্যে কৈফিয়ত-গুলো কর্তব্যপরায়ণ হয়ে ওঠে
শেষ যেদিন মৃত্যু হয়েছিল ; সেদিন তুমি~তুমি~তুমি, — করে
ট্রোপস্পিয়ারে ভেসে-ভেসে চিৎকার করছিলাম !
সেই-যে সেইদিন গুলো প্রীতিস্নিগ্ধ না হলেও অন্তত এই খানে
চড়ম সহবাস করেছিল অগন্য নির্জনে !
শেষ পর্যন্ত এক-একটা পুড়ে ওঠা অভিযোগ, অস্বীকার করেছে
আমি নাকি একাই ভালোবাসা-কে নিজের মত কাছে পেতে
চেয়েছি !
গ ) সম্বিত না ফিরলে-ও স্তব্ধ সবকিছু
ঠিকঠাক মতো কিছু একটা নিষিদ্ধ গন্ধে স্বপ্ন ভাঙে
যে রাস্তাটা আমাকে ফেলে রেখে অবিকল হেঁটে গেছে
ওখানে সহজ স্তব্ধতায় শুক্লা দ্বাদশীর চাঁদও গির্জার বয়স্ক ঘড়ির
শব্দ শুনতে পেয়েছে !
উত্তরের অপেক্ষায় না থাকলেও এই ছবিটা
আমার কবিতার সাথে সমান অধিকার নিয়ে থাকবে …….
একদিন বছর উনিশ আগে নবনীতাকে বলেছিলাম ; কাছে এসো,
তোমার যোনির আগুন থেকে একটা সিগারেট ধরিয়ে
শেষ পর্যন্ত মৃত্যু পাড় করি !
এতকাল পরে কথাহীন যতকথা নীরব ভাস্করে ছবি এঁকেছিল
না বলা কথাগুলো আমার পেছনে ফেলে হেঁটে হেঁটে গেছে ,……
কী এক দোষ-দোষ গন্ধ নিয়ে রাত সাড়ে ন’টায় আমি আছি
তোমার শরীরী রাস্তায় !
ঘ ) সব কিছু ঠিক আছে কিনা ;
সেগুলো নিয়ে কিছু কথা হয়েছিল
মধ্যবর্তী সময়ে আমিও শান্ত হয়ে ছিলাম চুপকথা মেলে, —
রোজ রোজ এই সময় অনন্তকালের নদীটা অবলীলায় আমার
প্রলাপ গুলো নিয়ে হেসে ছিল একা একা ,……
দিন-রাত নিঃসন্দেহে বলেছি ; দেখে নিও আমিও প্রাণ দেব !
প্রথম প্রথম একটু একা হয়ে থাকার কারণে বৃষ্টিগুলোর হিসেব
করে উঠতে পারিনি ; অথচ কবিতার এ্যালবাম দেখে মনে হল , –
আমি কী সেই ; যে প্রতিদিন কথাহীন আঁধারে মন পেতে বসে
ছিল একান্নভাগ মিলন ইচ্ছায় ! অযথা কারণে !!
__________________________________
স্মৃতিঘর ও পরিচিত উপহাস
যদি ওভাবে উচ্চারণ হত অফুরান স্বপ্নগুলো ; তাহলে আর একবার মৃত্যু নিয়ে ঘুমিয়ে পরবো এই ঘরে , এই বিছানায় !
মহাবনস্পতি থেকে শূন্যের অদূরের আকাশ ; এধারে – ওধারে মাখামাখি নীলের বৃষ্টি ….. ভেতরে নিরাময় স্তব ; চোখের পিঞ্জরে নির্জন নিঃশব্দ কথা , আরও কত প্রাঞ্চল অসুখ ; এ আমারই !
নতুন কেনা চশমায় চোখ বাসা বাঁধে ; হাওয়ায় বাতাসে ভাসে এ বাড়ির প্রতিটা স্তবক ৷ চার ধারের চোখগুলো ছায়া ছায়া ভাসমান ; অদ্ভুত হেঁয়ালী নিয়ে নির্বাক এভাবেই স্বপ্নে ঘুরে গেছে ব-হু বার ,—- অথচ প্রত্যন্ত অস্থিরতায় কেউ যেন শরীরের সমস্ত নগ্নতা আদিখ্যেতায় দেখাতে চেয়েছে এই আমিটাকে ! এই বাড়ি , ঘর – দোর , চেনা সিঁড়ির প্রতিটা অবয়ব কবে থেকে অন্য এক সময় থেকে নির্বাসন নিয়েছে ! অথচ এখন …..
সেই দেরাজে লুকিয়ে রাখা মৃত প্রজাপতির ডানা ; সেটাও মনকে পোড়ায় !
এই গভীরের অসুখ স্মৃতিভিক্ষা করে সময়ের কাছে কতবার , কতভাবে ,—- তবু যতবার আমার শরীর ছেড়ে চলে যাওয়া ; আজীবনের কবিতাদের ফেলে , সেগুলো এখন বাহিরের দরজায় দাঁড়িয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করছে !
কাউকে এভাবে মন খুলে ডাকিনি এভাবে ; সেই আকাশ পাড়ের চাঁদ , সেও বৃষ্টির ভেতর আমার ডাক শুনতে পায়নি একবারও !
স্নানঘরের ভেতর বারোমাসের স্বপ্নদোষ ; তারাও মধ্যরাতের দুঃস্বপ্নে এসে আমি কেমন আছি খোঁজ নিয়ে গেছে !
কাল সারারাত এই মেঘ-বৃষ্টির ভেতর ঘরের জানলা খোলাই ছিল !
মনের মধ্যে দিয়ে কত রাতের নির্ঘুম যাপন ; সেও পাখির বাসার মত নীরবতায় একাকার ,—— সবটাই এই স্মৃতিঘরে একাই জীবন পেতে বসে আছে !
কেউ একজন মৃত্যুর পরেও নিমন্ত্রণ পাঠিয়েছে আমাকে ; উষ্ণ আলতো উচ্চারণে ,—– ভেতরের যাবতীয় প্রাপ্য দুঃখ ; তারাও আমার পায়ের নীচের রাস্তায় নির্দ্বিধায় অশ্রু ঝরিয়েছে !
এই রাস্তায় আমার নাম ধরে কবেকার আধপোড়া স্মৃতি ডেকেছে ; সেটাও নির্ঘুম ঘুমন্তে শুনতে পেয়েছি ,—– এই অন্তহীন সময় শ্মশান থেকে আমিও অশরর বৃষ্টি ভিজে ফিরে আসা ;
অন্য কোন জন্মঘরে ! মৃত্যুর অনেক পরে…__________________________________
হাওয়ায় ভেসে উঠলাম
জেগে থাকার মগ্নতায় বদলে নিলাম আকাশ ! অন্দরে তখন বোধিসত্ত্ব বয়সহীন একা এভাবেই ,—– যদি কথায় মন নিয়ে এগিয়ে এলে গভীরে চেনা রাস্তায় চলাচল করে বর্ণমালা !
সেই একই ভাবে শব্দ দেখবো অনন্ত দ্রাঘিমার ভেতর ; মৃত স্মৃতি মন পোড়ায় শয়ন শিয়রে , তবুও চোখের মধ্যে চাঁদ – তারা – অন্য নক্ষত্রেরা দু’দিনের ঘৃণায় ছায়াহীন দুঃস্বপ্নের ডাকে মৃত্যুর প্রতিনিধি !
শেষ একবার ইচ্ছে করেই উলঙ্গ হলাম ! এই নগ্নতা ঈশ্বরীয় ; সকাল – সন্ধ্যার মত অস্থায়ী ভাবে বিবর্ণ দৈবাৎ ,—-
যদি প্রতিদিনের অসুখগুলো পরমুখাপেক্ষী না হতো ; তাহলে বৃষ্টিবিন্দুগুলো সাক্ষী থাকতো অকৃপণ সময়ের কাছে !
শেষ বারের মত হাওয়ায় ভেসে উঠলাম ,—- তাই শরীরহীন প্রার্থনা নিয়ে আদেখা ঈশ্বরকে বলি আগামীজন্মে আমাকে ঘুড়িজন্ম দিও হে প্রেমময় !!
________________________________
এক নামহীন স্টেশনে আমি
একমাত্র ঈর্ষণীয় কিছুর জন্য ভেতরে ভেতরে মন নিয়ে পুড়ছিলাম ; অথচ সেই এক রাস্তায় বহুবার মৃত্যু এসে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে গেছে অপ্রমেয় এক নামহীন স্টেশনে ! তখন ঠিক স্বপ্ন ছিল .ঘুমহীন রাতগুলোর কাছে , …. যদিও আমি যতটা যেভাবে এতকাল ধরে ক্ষয়েছি ;
তবু মৃত্যুর খবর টুকু অনুধাবনে মনকে সক্ষম করে নি একবারও ! শেষ পর্যন্ত ঐ যে চেনা মুখ , চেনা শরীর , ঘর-বাড়ি , হৃদয় ছড়ানো রাস্তা , কিছু কিছু সুখ ; এদের মধ্যে বহু পুরুষের জন্মের দাগ নিয়ে আমি একজন ! এই আমি হাওয়াময় একক এভাবেই , ….. নজর ছড়ানো পাপ , তাপ , দুঃখ এবং বিরহ ; বেশ কিছু নতুন নতুন অসুখ পোড়া প্রহরের স্মৃতি বিজড়িত ! এই আমিটার মধ্যে আদ্যোপান্ত জন্মগত , ……
অন্তঃস্থলে নির্ঘুমের আঠা লেগে আছে ! রক্তের ভেতর ঘুরছে গত জন্মের স্মৃতি হয়ে যাওয়া চেনা মুখ গুলো ,
এই পাঁচকোনা ঘরে আমি দরজার পাল্লা ধরে দাঁড়িয়ে বহুদিন বান্ধবহীন একা ; তবুও তাকিয়ে থাকা খোলা চোখে বেশ কিছু ভালোবাসার শূন্যে ওড়াউড়িতে তালিয়ে যাই , ……
আমি এভাবেই মৃত্যুর কাছে ঋণী ! মধ্যরাতে নিঃশব্দে এভাবে চুপিসারে মনের ক্যানভাসে আঁকি নদীর তরঙ্গ ; জলের দর্পণে ভাসে রমণীর জটিল লাস্য ৷ এভাবে কত রাতের অন্ধকারের মধ্যে মৃত্যুর সম্মুখে শোকশীর্ণ হয়ে মুখ নিচু করে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমার ইহকালের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি ! এটাই আমি ; আমার দীর্ঘশ্বাসের গন্ধ সমর্পণ করতে তারা খসা আকাশটাকে ! অথচ নবনীতা নাম্নী নারীটি খারাপ ইঙ্গিতে নিরস্ত্র করেছে অলৌকিক ক্ষমতায় ম্যাজিক ফিগারের কল ঘরের স্নানের দৃশ্য দেখিয়ে !
শেষটুকু ভীষণ কষ্ট করে লিখেতে হয়েছে ! রাতের ভেতর আমার পশ্চাৎদেশের ছায়া বালি-সিমেন্ট খসা দেওয়ালে অমাইক সভ্যতা নিয়ে স্থির হয়ে জেগে আছে ,……
এই মৃত্যু কতবার সিঁড়িভেঙে অসাবধানে নিচে নেমে গেছে ; আমিও ডুবেছি বহুবার প্রায়ই ৷ হৃদয় যেখানে নিছক এঁকেছে কল্পনায় আমার অতীতের নারী মুখ গুলো ; সেই সব দিনগুলো মৃত্যুর ভেতর ফিরে আসে হঠাৎ করেই অজান্তে ! শেষে কারা যেন ঐ শ্মশানের কাছে এসে ফুল চন্দনের সোহাগ মিশিয়ে আমার শ্বাস-প্রশ্বাস হীন শরীরে আগুন এঁকে দিতে দিতে বলে ওঠে ; এবার তুমি সোজা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে স্মৃতি হয়ে ওঠো ! এবার তোমার কায়াহীন আজন্মের বিশ্রাম ! ভালো থেকো ; ওঁ শান্তি ! ওঁ শান্তি ! ওঁ শান্তি সর্ব ভূতেষু নমঃ !!
__________________________________
শব্দগর্ভের ক্লিব কঙ্কাল
ৎ থেকে ৺
সাদা পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ ব্যাকরণ- এ অমাইক তারা ! তবুও শব্দের শেকড়ে আদুরে এ – কার , উ – কার বিমূর্ত এলেবেলে দু’জন পরকীয়া দোষে প্রাচীন দ্রাঘিমা থেকে বেরিয়ে এসে ভাষার উঠনে সহজ কিস্তিতে ব্যাভিচার বর্তমানকে নষ্ট অতিতের গল্প শোনায় !
যতটা ঋণস্বীকার করা যেত ; হৃদয়তন্ত্রীতে কাব্যের সরিফ যারা অনেক কাল আগে উপনিষদের সারস্বত ছায়া দেখে দেখে চলেছে ভবঘুরে হিজড়ের ছদ্মবেশ নিয়ে ; আকাশ উচ্চতায় উঠে সৃজনের চেহারা দেখে ঘুমহীন নির্ঘুমে ফুঁসলে নিল দৃশ্যের উপমা !
শেষ কথা প্রশাখা মেলেছে উল্টোমুখে ; বুকের মধ্যে জড়িয়ে রাখা নির্নিমেষ স্মৃতি , সেখানে কবিতার আওয়াজ শুনতে পেয়েছে অন্যকোন পৃথিবীর প্রাণীর জীবাশ্ম ! যদিও এই রাস্তাটায় অন্য কোন অচেনা নামের পথ এসে আলাপ করেছে অতিরিক্ত নিঃশব্দে !
কিছু কিছু ক্ষেত্রে কোলকুঁজো নির্জনতা দৃশ্যত অতীত খুঁড়ে – খুঁড়ে আমার প্রতিটা জন্মের সাদা পৃষ্ঠার পোশাকগুলোকে নিরীক্ষণ করেছে এক পশলা বৃষ্টির ভেতর !
এই সব ৎ এবং ৺ , এরা চোখের মধ্যে দুরত্ব রেখে দাঁড়ায় ৷ তবু বাতাস পঁচা গন্ধ নিয়ে সারারাত জেগে বসে থাকে কাব্যগ্রন্থের দৈন মলাট !
সময় তবু কিছু কিছু সর্বনাশের আয়ু নিয়ে এভাবেই আড়াল হয়ে থাকে ! যদি ভুল না করি ; অক্ষর শ্রমিকেরা এভাবেই ঠকে আদ্যোপান্ত মনভ্রমণে !
চলেছে আমার শরীর স্পর্শ করে বহু জনমের ছায়া ; ভিতরে ভিতরে অপলক তাকিয়ে চেয়ে থাকে আজীবনের কবিতার পংক্তি ; শব্দগর্ভের ক্লিব কঙ্কাল !!
অন্য একদিনের ভুল উচ্চারণ গুলি নিয়ে দিকহারানো স্বপ্ন নিয়ে হেঁটে বেড়ানো আমার ; সবটাই ফুরিয়ে যাওয়া স্মৃতি ৷ তবু মনের মধ্যে লেখা এক পাতা কবিতা সারারাত্তের ঘুমের তলার আমোঘ নির্ঘুম ,—– হাতের মুঠোয় এক টুকরো অভিযোগ উদয়াস্ত যত্নে থাকুক ; বিশ্রী ভ্যাপসা শব্দগন্ধে মূকবধির অসুখ – বিসুখ !
দর্পণ উল্টে রাখা কল ঘর নির্জন হলে ; সেখানে জেগে ওঠে অন্য কোন হারিয়ে যাওয়া শব্দ ৷ প্রতিদিনের মার্জনা এভাবেই কাব্যের পান্ডুলিপি পোড়ায় আমার অন্তর্গত একাকীত্বময় চটুল নিঃশ্বাস – প্রশ্বাসে !!
_________________________________
মেঘ পালক ও বৃষ্টি ধ্বনি
চোখ বিছিয়ে অন্তর্হিত ; হাত এগিয়ে যেইনা ধরতে যাব , স্বপ্ন যেন সাদা পৃষ্ঠায় এ’ভাবেই কুপোকাত্ ! তবুও যেন এই ঘুমন্তে শ্রবণ দেখা ; নেহাতি হাজার কথার বর্ণিত আঁকিবুকি ,—-
আকাশটা ঠিক আগের মতোই এক শারীরীক রঙ বদলে ঐতিহাসিক ! মনের ভেতর মন রাঙিয়ে আনন্দে ডুবু-ডুবু ,—-
আকাশটা সে-ই পদ্য পাড়ায় ইচ্ছে করেই বুক পেতেছে সোহাগ দিতে আমার কাছে ! ও-ই আকাশের সুদূর থেকে বৃষ্টি ঝরে একই ধারায় ; হঠাৎ যেন কি হচ্ছিল সেই ধ্বনিতে মন ডুবিয়ে এই আমিটার অতলান্তে !
মেঘ পালকে ভাসছি আমি ; অতীত এবং ভবিষ্যতে ! অন্য কোন ইচ্ছা গুলো ভরদুপুরে তোর এঁকেছে জ্যোৎস্না শরীর , এই জন্যেই ভেতরশুদ্ধ ঋণী রইলাম প্রিয়ংবদা ; সবটুকুই পাগল আবেগে !
কতবারযে তোকে পেয়েছি মেঘ সরিয়ে ; গভীর থেকে স্বভাবতই এভাবে ঠিক মন পুড়েছে ,—– অসুখটা যে পরমুখোপেক্ষী ; এটাওতো আগে বুঝিনি !
বৃষ্টি বৃষ্টি চোখ খানি তোর ; বেশি বললে বিশ্বব্যাপী ! ওই চোখেতে সারা বছরই আমার কাছে আষাঢ় – শ্রাবণ ,—- যদিও ঠিক এই সময়ে বাতাস হতে ইচ্ছা করে ; একমাত্র তোর জন্যে প্রিয়ংবদা !
এইতো আমার ভিতরশুদ্ধ তুই ছাড়া কেউ নেই ,—– আমার যত দোষগুলোকে আকাশ তারায় গুণন্তি করে মিলিয়ে নিলাম ; হেয়ালী নয় , সত্যি বলছি প্রিয়ংবদা ! এবার আমায় ক্ষমা করে দে ; তোর শরীরে ভাসার জন্য পুণ্যবান হতে দে !
গোটা রাতটা আমার মতোই অর্ধেক অবিশ্বস্ত ; তবু আমায় ক্ষমা করিশ ঘুম হারানো নির্ঘুমেতে এমনি ভাবে ,—– মেঘ যেন সেই তেপান্তরে উড়তে উড়তে অনেকটা দূ-র প্রেম প্রবাহে ; অস্পষ্ট কুমারী ! এই ঘরেরই এই বিছানায় অহরাত্রি তোরই স্মৃতি ; কি করে যে ভুলতে পরি প্রিয়ংবদা ? বন্ধ চোখের ভেতর থেকে ক্রমাগত একই ধ্বনি ; সঙ্গী কিম্বা সহপাঠী ,—-
যদিও আমার এই চিঠিতে আসা যাওয়ার চেনা পথটা বৃষ্টির শব্দে শব্দে কি ভাবে যে দুঃস্বপ্নের ভেতর মুছে গেল ! একমাত্র তুই সাক্ষী থাকলি ওরে পাগলী !! স-মা-প্ত
কবি পরিচিতিঃ বাংলা কাব্যসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবি ব্যক্তিত্ব বিদ্যুৎ ভৌমিক ৷ জন্ম ১৬ই জুন ১৯৬৪ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার ঐতিহাসিক শহর শ্রীরামপুরের এক সম্ভ্রান্ত ও শিক্ষিত পরিবারে ৷ যাঁর প্রতিটি নির্মাণ কবিতা প্রেমীদের কাছে পরম সম্পদ ৷ কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক তাঁর কবিতার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পেয়েছেন ২০২২ “সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সাহিত্য সম্মান”। সম্প্রতি ২০২৩ কলকাতার মধুসুদন মঞ্চ মৌললী যুব কেন্দ্রে “ছায়াপথ প্রকাশনী” থেকে তাঁকে দেওয়া হয় বিশেষ সাহিত্য সম্মান ৷