


কবিতার সাথে কথা হয় রোজ সত্যি কথা বলতে কি, আমার কবিতা সম্পর্কে কিছু বলার বা নিজের কাব্যময় অনুভব নিয়ে বলতে বড়ই দ্বিধা জাগে । আসলে এই ব্যাপারটা অনেকটাই মায়াদর্পণ, অর্থাৎ ম্যাজিক রিয়ালিটি ” বলা যেতে পারে । এই দর্পণে উকি দিয়ে দেখলে কত অলীক কিছু আমরা খুঁজে পাই । অক্ষরে অক্ষরে কতযে জড়ানো বিলাপ । তাই কবিতার প্রতি আভূমি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতেই হয় ।_________________________
দর্পণের রূপকথা
অন্যমনস্ক এক স্তব্ধতা ; মধ্যে সহজ সত্য বিস্তৃত লম্বা একটা দরজা খোলা বারান্দা ! এখানে পশ্চিমি বাতাস মাঝে মধ্যে বিষাদ গেয়ে চলে কমনরুমের চাঁদ দেখে মন্ত্রঃপুত ডোবার জলে ; প্রণয় নিবেদনে !
অলৌকিক অক্ষরগুলো মনের সাজঘরে ট্যাটু আঁকে ……. এই প্রিয়জন অসুখ স্পষ্টতঃ নিছক স্বপ্নাভ তরুণ ৷ অতএব ওদিকে জ্বলছে বিন্দু বিসর্গের কাব্য ! ধ্যানস্থ ছিল আমার সবটুকুই ; শুধুমাত্র হাত ফেরোত সমৃতিগুলো দুনিয়ার আয়ুরেখা মুছে দিয়ে নিজেই বৈরাগ্য নিয়েছে !
ঘাস ফড়িং ও অন্য প্রজাতির পতঙ্গরা এভাবেই ভুলেছে প্রত্যন্তের আচার আচোরণ ; অথচ শস্যবীজ ফেঁটে নিঃশব্দের রাত ছায়াময় শরীর নিয়ে চলে আসে ভূত এবং দয়াময় দেবতার মধ্যেখানে ! এটা দিয়েই প্রথম লেখা হল নির্বাসিত সমৃতির মহাকাব্য গুলো , …… গলছে ভেতরের ব্যক্তিগত দৃশ্যগুলো ; একা একা বিও বাসনা ! তবুও হাওয়ার মধ্যে ভাসে তপস্যার বৈদিক প্রহর !
কিছু কি চেয়েছি চোখ পেতে ; অন্য ঘরের প্রাচীন নাটক নানাবিধ আঁকার নিয়ে জেগে বসে আছে অনন্ত নির্ঘুম , ….. সেই যে একটানা লম্বা রাস্তায় ক্ষমাপ্রার্থীরা মুখ নিচু করে উলঙ্গ দাঁড়িয়েছে ; অভিন্ন একপ্রকার ! সেই থেকে অন্তহীন জটিল নিরবতায় আমিও মরেছি একা ও একক !
এখান দিয়ে এগিয়ে চলে এলে শ্মশানও গত জন্মের আঁধার পেতে বসে , ….. ! দু’বেলাই ঘিরেছে আনাত্মীয় অন্ধকার ; প্রেম এবং আকণ্ঠ সর্বনাশ কথা হারিয়ে বোবা একপ্রকার ! আত্মবীজ এই নষ্ট জ্যোৎস্নায় আমাকে পোড়ায় কবিতার ঘরে ; তবু মরি না মরার আগে বিচ্ছেদ গৌরবে !
এই অপ্রমেও সন্ধিক্ষণ বরাবরই অলৌকিক ! হয়তো ছায়াশূন্য এক বিকলাঙ্গ শরীর বাতাসে নেচে ওঠে ; গোপনাঙ্গ কানাপুকুরে ডোবে বৃষ্টির আদর পেতে !
এই দর্পণে বেমালুম আমার প্রতিবারের মৃত্যুগুলো একান্নবর্তী এভাবেই স্বপ্নহীন থাকে , ….. শেষ একবার প্রতিহত স্বপ্ন থেকে বেঁচে উঠি আর একটা মৃত্যু পাব বলে !
এই রাত নিশ্ছিদ্র নিরব ; তবু এখানে আমিও পুনশ্চ নপুংশক !
যদি মরি ; নিছক মৃত্যুর স্বপ্ন দেখে , সেটাই এক অপরিবর্তীত বায়োটেকনোলজির অন্য সম্ভাবনায় প্রদর্শন যোগ্য হবে !! 🖋️
কবিতা আমার নিজের প্রাত্যহিকতাকে
তছনছ করে, চুরমার করে । সহজভাবে চলতে – চলতে কবিতা
মানুষকে বেসামাল করে দেয় । একটা ভাল কবিতা পড়লে মন
অনাস্বাদিত আনন্দে ভরে যায় । আমি মনে করি, এই ভালো লাগার একটা অদৃশ্য চাপা উত্তেজনা ও অস্বস্তি থাকে । তবে কি, আমি আদ্যোপান্ত ভাবে মনে করি — আমারা এই অস্বস্তি
থেকে মুক্তি পেতে চাই না । একটা ভালো কবিতার জন্ম হয় আসলে মেধা ও আবেগের মিলিত রসায়ন থেকেই । শুধু আবেগ কবিতার সংহতিকে নষ্ট করে । আর মেধা নির্ভর কবিতা হৃদয়কে স্পর্শ করেনা । চেনা, জানা – দৃশ্য যিনি মৃদু উত্তেজনায় ফুটিয়ে তোলেন তাঁর কবিতায় থাকে আলোর কারুকাজ । আমি খুব সতর্ক থাকি যখন কলম নিয়ে বসি কিছু একটা লেখার জন্য । কবিতার জন্ম হয় না, আবির্ভাব হয় বলতে পারি । কবি অনেকটাই নিভৃতচারী, মনন ও তাঁর জীবনধর্মী চেতনাকে নিরন্তর লালন ও পালন করে আসছেন যুগ যুগ ধরে । তার ফল সরূপ শব্দের কারুকার্যখচিত ভাব – ভাবনায় গড়া কবিতার প্রকাশ হয় । আবার বলছি কবিতার জন্ম হয় না । আমি ৭০ – এর দশকের কিছু পর থেকে কবিতা লিখছি । আমি বিশ্বাস করি না, সত্যকে স্বরচিত সুন্দরের খামের ভেতর পুরে রাখতে চাই না । তবে রাখা বা না রাখার ব্যাপারে বিশ্বাস ~ অবিশ্বাসের দোলাচল, ঐতিহ্য ও সংস্কারের মান ভঞ্জন, বিষয় না বিন্যাস — মেধা না কেবল মনন — হৃদয়ে হৃদয় খোঁড়া — প্রবাহ জোড়া কেবলই একলা হতে থাকা, নিঃস্ব । একটা বিশেষ সত্যি কথা হল, — আমি মদ না ছুঁয়েও মাতাল । আসলে কি, যে নেশা আমি প্রায় চল্লিশ বছর ধরে প্রতিনিয়ত করে চলেছি , তার মায়াময় অনুভূতি আমি ছাড়া অন্য কেউ অনুধাবন করতে পারবে না ।
কিছু – কিছু অপূর্ণতা ম্যাকডেভিড মহাশূন্য মনে হয় , …..
সে জন্য দিকচিহ্ন মুছে অতীত স্মরণের পথে একা হেঁটে
যাওয়া ;
পাগল বৃষ্টিরদল অবুঝ শিকারী ; সেখানে বিচ্ছেদজ্বালায়
নির্জন হয়ে থাকে পূর্বপরিচয়
এই রাত্রির কাছে নামহীন তারাগুলো নির্ঘুম বহুকাল
অনির্দিষ্ট এই পথে আমাকে ডেকেছে কত মহত নরক ,—
সেখানে দগ্ধ হয়েছে গোপন সর্বনাশ !
এরপর মৃত্যুঘুম থেকে তুলে নিয়ে গেল অলিক সকাল !
কবিতা নির্ঘুমের উপাখ্যান থেকে 🖋️
নিজের সঙ্গে অহর্নিশ যুদ্ধ চলছে, কোথাও প্রত্যন্ত গভীরে আদিম ধর্মের ক্লেদ ও দেশ – বিভাজনের ঠান্ডা অথচ রাজনৈতিক দাঙ্গা ।” উক্তিটি আমারই । আমার লেখক কিম্বা কবি জীবন ঐতিহাসিক কোনো ঘটনা নয় ; যা শুনে পাঠক সমাজ – এর কাছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সংগ্রহ হয়ে দাঁড়াবে । কবিতা লিখছি, লিখে চলেছি নির্বিবাদে । একলা ঘরে অন্ধকারে — মনে মনে । অবিন্যস্ত ছড়ানো শব্দগুলোকে একটা সাদা পৃষ্ঠায় নীলকালিতে সাজিয়ে গুছিয়ে লিখি । বড় বেয়াড়া ব্যস্ততা আমার, একটা কবিতা লেখার সময় নানান ঝঞ্ঝাট এসে সম্মুখে দাঁড়ায় ! যখন এই সব ভারসাম্যহীন ঝঞ্ঝাট দেখা দেয়,
তখন কাগজ – কলম গুছিয়ে ভালো কিছু লেখা পড়ি । আমার কথা এখন অনেকেই জেনে গেছেন, টিভি চ্যানেলের এবং পত্র পত্রিকার দৌলতে । অনেক জায়গায় আমি সংবাদ শিরোনামে এসেছি , এটা একমাত্র আমার দু’ই বাংলার পাঠকদের ভালোবাসার সুফল বলা যেতে পারে ৷
শব্দগর্ভের ক্লিব কঙ্কাল 🖋️
সাদা পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ ব্যাকরণ- এ অমাইক তারা ! তবুও শব্দের শেকড়ে আদুরে এ – কার , উ – কার বিমূর্ত এলেবেলে দু’জন পরকীয়া দোষে প্রাচীন দ্রাঘিমা থেকে বেরিয়ে এসে ভাষার উঠনে সহজ কিস্তিতে ব্যাভিচার বর্তমানকে নষ্ট অতিতের গল্প শোনায় !
যতটা ঋণস্বীকার করা যেত ; হৃদয়তন্ত্রীতে কাব্যের সরিফ যারা অনেক কাল আগে উপনিষদের সারস্বত ছায়া দেখে দেখে চলেছে ভবঘুরে হিজড়ের ছদ্মবেশ নিয়ে ; আকাশ উচ্চতায় উঠে সৃজনের চেহারা দেখে ঘুমহীন নির্ঘুমে ফুঁসলে নিল দৃশ্যের উপমা !
শেষ কথা প্রশাখা মেলেছে উল্টোমুখে ; বুকের মধ্যে জড়িয়ে রাখা নির্নিমেষ স্মৃতি , সেখানে কবিতার আওয়াজ শুনতে পেয়েছে অন্যকোন পৃথিবীর প্রাণীর জীবাশ্ম ! যদিও এই রাস্তাটায় অন্য কোন অচেনা নামের পথ এসে আলাপ করেছে অতিরিক্ত নিঃশব্দে !
কিছু কিছু ক্ষেত্রে কোলকুঁজো নির্জনতা দৃশ্যত অতীত খুঁড়ে – খুঁড়ে আমার প্রতিটা জন্মের সাদা পৃষ্ঠার পোশাকগুলোকে নিরীক্ষণ করেছে এক পশলা বৃষ্টির ভেতর !
এই সব ৎ এবং ৺ , এরা চোখের মধ্যে দুরত্ব রেখে দাঁড়ায় ৷ তবু বাতাস পঁচা গন্ধ নিয়ে সারারাত জেগে বসে থাকে কাব্যগ্রন্থের দৈন মলাট !
সময় তবু কিছু কিছু সর্বনাশের আয়ু নিয়ে এভাবেই আড়াল হয়ে থাকে ! যদি ভুল না করি ; অক্ষর শ্রমিকেরা এভাবেই ঠকে আদ্যোপান্ত মনভ্রমণে !
চলেছে আমার শরীর স্পর্শ করে বহু জনমের ছায়া ; ভিতরে ভিতরে অপলক তাকিয়ে চেয়ে থাকে আজীবনের কবিতার পংক্তি ; শব্দগর্ভের ক্লিব কঙ্কাল !!
অন্য একদিনের
ভুল উচ্চারণ গুলি নিয়ে দিকহারানো স্বপ্ন নিয়ে হেঁটে বেড়ানো আমার ; সবটাই ফুরিয়ে যাওয়া স্মৃতি ৷ তবু মনের মধ্যে লেখা এক পাতা কবিতা সারারাত্তের ঘুমের তলার আমোঘ নির্ঘুম ,—– হাতের মুঠোয় এক টুকরো অভিযোগ উদয়াস্ত যত্নে থাকুক ; বিশ্রী ভ্যাপসা শব্দগন্ধে মূকবধির অসুখ – বিসুখ !
দর্পণ উল্টে রাখা কল ঘর নির্জন হলে ; সেখানে জেগে ওঠে অন্য কোন হারিয়ে যাওয়া শব্দ ৷ প্রতিদিনের মার্জনা এভাবেই কাব্যের পান্ডুলিপি পোড়ায় আমার অন্তর্গত একাকীত্বময় চটুল নিঃশ্বাস – প্রশ্বাসে !! 🖋️
এই কবিতার জন্য অনেকের কাছে আমি হিংসার কারণ । যানি না, আমি তো কোনো কবিকে হিংসে করিনা তবে তাঁরা কেনযে আমাকে হিংসে করে, — এটাই ভাবতে অবাক লাগে ! ভারত ও বাংলাদেশের পাঠকবন্ধুদের ভালোবাসা প্রতিদিনই পাচ্ছি । প্রচুর চিঠি, ফোন, এস. এম. এস, — এসব তো চলতেই থাকে নিত্যদিন । আমাকে নিয়ে অনেক জায়গায় নানান খেঁজুড়ে গল্প – টল্প ইদানিং হয় বা হচ্ছে । সেসব কানেও আসছে । আমি আমার কবিতার ব্যাপারে একনিষ্ঠ, তাই কোনো কমপ্রোমাইস্ করিনা ! নিজের নামটাকে বহন করা অত সহজ সাধ্য ব্যাপার নয় । বন্ধু মহলটা আমার ভালোই । তাঁরা নানা ভাবে আমাকে উৎসাহ দেন । আমার কবিতার চাহিদা বরাবরই ভালো । আমার কাব্যগ্রন্থ ১ /কথা না রাখার কথা ২ /গাছ বৃষ্টি চোখের পাতা ভিজিয়ে ছিলো ৩ /নির্বাচিত কবিতা — র বাজারে বেশ কাটতি আছে । আমি মনে করি কেউ যদি তাঁর সৃষ্টির ভেতর নিজেকে ১০০ % দিয়ে দিতে পারেন, তাহলে তাঁর সাফল্য হবেই । কেন কবিতা প্রকাশিত হচ্ছে না, কিম্বা কোনো প্রকাশক তাঁকে পাত্তা দিচ্ছেন না, এসব দুঃশ্চিন্তা তাহলে আর হবে না । এইসব আমি কোনোদিন চিন্তায় আনিনি । লেখাটা মন – প্রাণ দিয়ে লিখি যাই । ফলের পেছনে দৌড়াইনি কোনোদিন । একটা কবিতা সৃষ্টি হবার আগে যত যন্ত্রণা, লেখা হয়ে যাবার পর অভ্যন্তরে প্লাবিত আনন্দ ! অনেকটা একটা শিশু জন্মের আগে এবং পরে যা ঘটনা ঘটে আমাদের মায়েদের । আমি একটা ঐতিহাসিক শহর হুগলি জেলার শ্রীরামপুরে থাকি । অর্থাৎ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ।
গোটা জীবনটা ধরে মস্ত মস্ত মোটা মোটা বই লেখার চাইতে , আমি মনে করি একটা সত্যি কারের রিয়্যালিষ্টিক অর্থাৎ সার্থক চিত্রকল্প নির্মাণ করা অনেক ভালো ! তাই না ? It is better to present one image in lifetime than to produce voluminous work I এটা আমার কথা নয় , এটা এজরা পাউন্ড এর প্রণিধানযোগ্য বাণী ! এই চিত্রকল্প বিষয়টা কি ? উপমা ও চিএকল্প ব্যাপারটা কি এক ? কবি জীবনানন্দ দাশ বলেছেন ; উপমাই কবিত্ব ৷ উপমার মধ্যে চিত্র থাকলেও চিএকল্প ও উপমা কখনোই এক হয় না ৷ কবিতা রচনার মধ্যে কবির বুদ্ধিমত্তা ও আবেগের সংহতিকে যা একটা বিশেষ মুহূর্তে কবিহৃদয়ে জাগিয়ে তোলা ! কিন্তু এই ইমেজ কবির মনে জন্ম নেয় কিভাবে ? কবিকে আগে শব্দের দীক্ষা নিতে হবে ৷ শব্দ একটা কন্সেপ্ট concept অর্থাৎ ধারণার প্রতীক , এটা কিন্তু সর্বাগ্রে কবিকে অনুধাবন করতে হবে ৷ এরপর কবিকে শরীর , মন , প্রাণ দিয়ে বিশুদ্ধ থাকতে হবে ! তবেই তাঁর দর্শন আরও শক্তিশালী হবে ৷ সাম্প্রতিক বাংলা কবিতায় চিত্রকল্পের যে বহুল প্রয়োগ দেখা যায় , “ইমেজিষ্ট” আন্দোলনের পরোক্ষ প্রভাব থেকেই সেটা এসেছে ! কবিতায় জীবনের গভীরার্থ অনুসন্ধান করতে গিয়ে ভাঙাচোরা সময় থেকে সুস্থিতি ফিরে পাওয়ার আত্যান্তিক তাগিদ আমি অহর্নিশ উপলব্ধি করি ! যাই হোক , এটুকুই বললাম ৷ আগামী দিনে কবিতার চিত্রকল্প”- এই বিষয়টা নিয়ে আরও বিস্তারিত বলার ইচ্ছা রইল ৷
এখানে আমার অনেক কবি বন্ধুরা থাকেন, যাঁরা অহর্নিশ আদ্যোপান্ত ভাবে আমাকে কবি হয়ে ওঠার দুঃসাহস দিয়ে আসছেন দীর্ঘ ত্রিশবছর ধরে । এই পশ্চিমবঙ্গ এবং সুদূর বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণীর বেশির ভাগ পত্র পত্রিকা, বহু কাব্য সংকলন, এবং অগুন্তি কবিতা নির্ভর লিটল ম্যাগাজিনে দীর্ঘদিন ধরে লিখে চলেছি কবিতা, শুধু মাত্র কবিতা । আমি হাজার জায়গায় খাবলাই না । আমার প্রিয় কবির মধ্যে প্রথমেই রবীন্দ্রনাথ । তবে আমার মনে হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সকলেরই প্রিয় । জীবনানন্দ, বিষ্ণু দে, বিনয় মজুমদার, — আমাকে ভীষণ ভাবে টানে । আপনারা সবাই জানেন, সুনীল দা অর্থাৎ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আমাকে কবিতার জগতে একটা ব্রেক দিয়েছেন । খুব স্নেহ করতেন আমাকে তিনি । এখনকার কবিদের মধ্যে অনেকেই আছেন যাঁরা আমাকে অনুপ্রাণিত করেন । তাঁরা হলেন, — জয় গোস্বামী, সুবোধ সরকার, মৃদুল দাশগুপ্ত, অজিত বাইরী, শ্রীজাত , এদের কবিতা ভীষণ ভাবে ভালো লাগে । সবশেষে বলি, — পাঠকবন্ধুরা যাঁরা আমাকে কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক হিসাবে চিহ্নিত করেছেন তাঁদের প্রতি রইল আমার অতল মনের কবিতাময় শুভ কামনা ও এক সমুদ্র ভালোবাসা !
বাংলা কাব্যসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবি ব্যক্তিত্ব বিদ্যুৎ ভৌমিক ৷ জন্ম ১৬ই জুন ১৯৬৪ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার ঐতিহাসিক শহর শ্রীরামপুরের এক সম্ভ্রান্ত ও শিক্ষিত পরিবারে ৷ যাঁর প্রতিটি নির্মাণ কবিতা প্রেমীদের কাছে পরম সম্পদ ৷ কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক তাঁর কবিতার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পেয়েছেন ২০২২ “সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সাহিত্য সম্মান”। সম্প্রতি ২০২৩ কলকাতার মধুসুদন মঞ্চ মৌললী যুব কেন্দ্রে “ছায়াপথ প্রকাশনী” থেকে তাঁকে দেওয়া হয় বিশেষ সাহিত্য সম্মান ৷