


জামালপুরে সাংবাদিক নাদিম হত্যায় জড়িতরা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন।
এমনকি নাদিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল আলম বাবু আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় জায়গা পেলেও বাবুকে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বলে দাবি করেছেন তিনি।
শনিবার (১৭ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত সাংবাদিক নাদিম হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘গোলাম রাব্বানি নাদিম মূলত সাংবাদিকতাই করতেন। যার ফলে সে আজ হত্যাকাণ্ডের শিকার, তার পরিবার এখন অসহায়। যে ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে খুনিরা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তারা সবাই আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় রয়েছে। কিন্তু তারা মূলত স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। কে তাদের আওয়ামী লীগে স্থান দিয়েছে, সেটা উন্মোচন করতে হবে। এমনকি এই ইউপি চেয়ারম্যানের পেছনের শক্তি কে, সেটাও বের করতে হবে।
নাদিমকে হত্যায় প্রধান অভিযুক্ত সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুকে শনিবার সকালে পঞ্চগড়ের সীমান্তবর্তী এলাকা দেবীগঞ্জের চিলাহাটি থেকে আটক করে র্যাব। সকালেই বাবুসহ ২২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন নাদিমের স্ত্রী।
নাদিম হত্যার বিচার চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘সাংবাদিক হত্যার বিচার আমরা পাচ্ছি না। বিশেষত, তদন্তকারী সংস্থার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের রিপোর্ট ৯৮ বার পিছিয়েছে। দেশ যদি স্বাধীন হয়ে থাকে, তাহলে সাংবাদিকরা কি সে স্বাধীনতা পাচ্ছে? আমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই, বন্ধু নেই। নিজেদেরকেই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যেন ভবিষ্যতে কোনো সাংবাদিকের গায়ে আঁচড় না লাগে।
তথ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে প্রেস ক্লাব সভাপতি বলেন, ‘নাদিমকে হত্যা করার পর আপনি কী তার পরিবারকে দেখতে গিয়েছিলেন? দুঃখ প্রকাশ করেছেন, করেননি। আপনারা কেন নিশ্চুপ থাকবেন? সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্ব। আমরা হুঁশিয়ারি দিচ্ছি, নাদিম হত্যাকাণ্ডের যারা মদদদাতা, তাদের খুঁজে বের করুন, শাস্তি নিশ্চিত করুন। আমরা এসবের পুনরাবৃত্তি আর চাই না।’
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক নেতা কুদ্দুস আফ্রাদ, ডিইউজের সাবেক দপ্তর সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, সাংবাদিক নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, ডিইউজের যুগ্ম সম্পাদক আলম খায়রুল, কোষাধ্যক্ষ আশরাফুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য দুলাল খান, ডিইউজের সহ-সভাপতি মানিক লাল ঘোষ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম হাসিব, ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি নাসিমা আক্তার সুমা, ডিইউজের আইন সম্পাদক শাহীন আলী ও সাংবাদিক মো.শাহজাহান মিয়া প্রমুখ।
নিউজ /এমএসএম