


বল হাতে বাংলাদেশ দ্বিতীয় সেশনটিও দারুণ কাটিয়েছে। এই সেশনে আফগানদের ৫ ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে পাঠিয়েছেন বোলাররা। এবাদত নিয়েছেন দুটি। একটি করে উইকেট নেন শরিফুল-মিরাজ-তাইজুল। দ্বিতীয় সেশন শেষে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ১৪৪। ফলোঅন এড়াতে দলটির এখনো প্রয়োজন ৩৮ রান। এই সেশনে ৫ উইকেটে ১০৯ রান রান করেছে তারা। মাঝে জাজাই-জামাল জুটি গড়ে প্রতিরোধ করেছিলেন। কিন্তু ৬৫ রানের সেই জুটি ভাঙার পর কার্যত ভেঙে পড়ে সফরকারীদের ব্যাটিং লাইনআপ। করিম জানাত ১৫ রানে অপরাজিত আছেন। দুই সেশন মিলিয়ে এবাদত সর্বোচ্চ নেন ৪ উইকেট। শরিফুলের ঝুলিতে জমা হয় দুটি।
এবাদতে বিধ্বস্ত আফগান ব্যাটিং
বোলিংয়ে এসেই প্রথম ওভারে উইকেট নিয়েছিলেন এবাদত। সেই ধারা বজায় রেখে আফগানদের চার ব্যাটসম্যানকে পাঠালেন সাজঘরে। লেগ স্ট্যাম্পে করা শর্ট বলে এবার পরাস্ত হামজা। লাফিয়ে উঠে ডিফেন্স করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু শর্টে লেগে থাকা ফিল্ডার মুমিনুলকে ফাঁকি দিতে পারেননি। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে দারুণ ক্যাচ নেন মুমিনুল। ১৫ বলে ৬ রান করেন হামজা। ১২৮ রানে সপ্তপ উইকেট হারালো আফগানিস্তান।
জামাল-জাজাইকে ফিরিয়ে প্রতিরোধ ভাঙলেন মিরাজ-এবাদত
আউটসাইড অফে পিচ করা ফুলার ডেলিভারি। ডিফেন্ড করতে চেয়েছিলেন জামাল। কিন্তু পারেননি। বল লাগে পায়ে। জোরালো আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। জামাল রিভিউ নেন। কিন্তু কাজ হয়নি। ৪৩ বলে ৩৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন জামাল। পরের ওভারেই আফসার জাজাইকে ফেরান এবাদত। শর্ট উড়িয়ে মারতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে ধরা পড়েন আফসার। শুরুতে ব্যাটিং ধসের পর দুজনে প্রতিরোধ গড়েছিলেন। দুজনকেই সাজঘরে পাঠান মিরাজ-এবাদত।
জাজাই-জামালে আফগানদের প্রতিরোধ
৫১ রানে চার উইকেট হারানোর পর নাসির জামাল-আফসার জাজাইয়ের ব্যাটে পরতিরোধ গড়েছে আফগানিস্তান। দুজনে খেলছেন দারুণ। তাসকিনের করা ১৮তম ওভারে ১৯ রান নেন আফসার জাজাই। দুজনের ফিফটির জুটি পূর্ন হয় মাত্র ৫৩ বলে। দুজনের ব্যাটে ভর করে ২৩ ওভারে দলীয় শতরান পূর্ণ করে আফগানিস্তান।
বিরতির পর আফগান অধিনায়ককে ফেরালেন শরিফুল
মধ্যাহ্ন বিরতির পর আরেকটি সাফল্য পেল বাংলাদেশ। এবার শরিফুল ইসলাম ফেরালেন আফগানিস্তানের অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদিকে। সবুজ ঘাসের উইকেটে বল হুটহাট লাফিয়ে উঠছে। বাংলাদেশের দুই পেসার ইবাদত ও শরিফুল সেই সুযোগটি নিয়ে আফগান ব্যাটসম্যানদের ভোগাচ্ছেন। দ্রুত গতির বলের সঙ্গে বাড়তি বাউন্সে হুটহাট সুযোগও তৈরি হচ্ছে। অধিনায়ক লিটনও আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং সাজিয়েছেন। চার স্লিপের সঙ্গে গালিতে রেখেছেন দুজন। এছাড়া পয়েন্টেও আছেন বাড়তি একজন। এমন আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং সাজাতে এর আগে খুব কমই দেখা গেছে। বিরতির দুই ওভার পর শরিফুলের লাফিয়ে উঠা বলে ব্যাট সরাতে পারেননি শহীদি। চতুর্থ স্লিপে দাঁড়ানো মিরাজ লাফিয়ে বল তালুবন্দি করেন। ১৬ বলে ৯ রানে থামে আফগান অধিনায়কের ইনিংস। অতিথিরা হারাল চতুর্থ উইকেট। দ্রুত ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ বেশ ভালো অবস্থানে চলে এসেছে। ক্রিজে এখন ব্যাটিং করছেন নাসির জামাল ও আফসার জাজাই।

আরও একটি উইকেট নিলেন এবাদত। এবার এবাদতের শর্ট বলে পরাস্ত রহমত। আড়াড়াড়ি ব্যাট চালাতে গিয়ে ব্যর্থ হন রহমত। মিডউইকেটে ক্যাচ নেন তাসকিন। ৯ রান করেন রহমত। তার আউটের পরেই মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় দুই দল। মাত্র ৩৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে থেকে বিরতিতে গিয়েছে। যদিও ব্যাট হাতে সকালটা ছিল দুর্বিষহ। দ্বিতীয় দিন মাত্র ২০ রান যোগ করতে পারে স্বাগতিক দল। ১০ রানের ব্যাবধানে অল-আউট হয় বাংলাদেশ।
শরিফুলের পর এবাদতের আক্রমণ
ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে ইবরাহীম জাদরানকে ৬ রানে ফেরান শরিফুল ইসলাম। তার অফ স্ট্যাম্পের ফুল-লেন্থ ডেলিভারিতে পরাস্ত হন ইবরাহীম। খোঁচা দেন উইকেটের পেছনে। শরিফুলের পর বোলিংয়ে এসেই নিজের প্রথম ওভারে তুলে নেন আবদুল মালিকের উইকেট। আউট সাইড অফ স্ট্যাম্পে করা এবাদের শর্ট ডেলিভারি ব্যাকফুটে খেলতে চেয়েছিলেন আব্দুল। কিন্তু বল ব্যাটের কানায় এলেগে যায় তৃতীয় স্লিপে। মাটিতে স্পর্শের আগেই দারুণ ক্যাচ নেন জাকির। মালিক ১৭ রান করেন। ২৪ রানে ২ উইকেট হারালো আফগানিস্তান।
অভিষিক্ত মাসুদের ফাইফারে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ
মাত্র ১০ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিন সর্বসাকুল্যে ২০ রান করে স্বাগতিকরা। অভিষিক্ত মাসুদ নেন ফাইফার। মাসুদ ১৬ ওভারে ৭৯ রান দিয়ে এই উইকেটগুলো নেন। জাকির হাসানকে ক্যারিয়ারের প্রথম বলেই ফিরিয়ে উইকেটের খাতা খুলেছিলেন। আর শরিফুলকে বোল্ড করে নেন ফাইফার। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন শান্ত। তার ব্যাট থেকে আসে ১৪৬ রান। এ ছাড়া মাহমুদুল হাসান জয় ৭৬, মুশফিকুর রহিম ৪৭, মেহেদি হাসান মিরাজ করেন ৪৭ রান। মাসুদের পর সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন। ১টি করে উইকেট নেন জহির-আমির-রহমত।

তাসকিন-শরিফুলের বিদায়ে অলআউট
প্রতি ওভারেই উইকেট নিচ্ছে আফগান পেসাররা। মাসুদের জোড়া উইকেটের পর ইয়ামিন ফেরান তাসকিনকে। ইয়ামিনের ফুল বলে সোজাসুজি ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন তাসকিন। বল লাগে পায়ে। জোরালো আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। তাসকিন রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারলেন না। ২ রান করেন তিনি। নতুন ব্যাটসম্যান শরিফুল এসে মাসুদ চার হাঁকান ৮৬তম ওভারের প্রথম বলে। আর শেষ বলে বোল্ড। ৬ রান করেন শরিফুল।
মাসুদের জোড়া শিকার মুশফিক-তাইজুল
দিনের চতুর্থ ওভারে মিরাজের বিদায়ের পর পঞ্চম ওভারে ফেরেন মুশফিক। অভিষিক্ত নিজাদ মাসুদের বাউন্সে পরাস্ত হন মুশফিক। শর্ট বল ডিফেন্স করতে গিয়ে ক্যাচ তিলে দেন স্লিপে। তার ব্যাট থেকে আসে ৪৭ রান। মুশফিকের বিদায়ের ১ বল পরেই মাসুদ ফেরান তাইজুলকে। শর্ট লেগে তাইজুল ফ্লিক করতে গিয়ে ক্যাচ দেন মালিকের হাতে। শূন্য রানে ফেরেন তাইজুল।
মিরাজের বিদায়ে দিনের শুরু
দিনের দ্বিতীয় ওভারে ইয়ামিন আহমেদজাইকে এক্সট্রা কাভারে দারুন চারে সুন্দর সকালের আভাস দিয়েছিলেন মিরাজ। সেটি ধরে রাখতে পারলেন না। বিদায় নেন ফিফটি থেকে ২ রান দূরে থেকে। ইয়ামিনের সিক্সথ স্ট্যাম্পে করা ওভারপিচড বলে পরাস্ত হন মিরাজ। আগেই ব্যাট চালিয়ে দেন তিনি। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে তালুবন্দি করেন আমির হামজা। ৮০ বলে ৪৮ রান করেন মিরাজ।
লক্ষ্য এখন বড় পুঁজি
আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের দ্বিতীয় দিন (বৃহস্পতিবার) ব্যাটিংয়ে নেমেছে বাংলাদেশ। ৫ উইকেটে ৩৬২ রান নিয়ে দিন শুরু করা বাংলাদেশের লক্ষ এখন বড় পুঁজি।
মুশফিক-মিরাজে ভরসা
সেঞ্চুরিয়ান নাজমুল হোসেন শান্তর চাওয়া মুশফিক-মিরাজের জুটি বড় হবে, ‘এখন যে অবস্থায় আছি, আমরা প্রথম ইনিংস নিয়ে একটু চিন্তা করি। যেভাবে মিরাজ ও মুশফিক ভাই ব্যাটিং করছে, এই জুটিটা যদি বড় করতে পারি তাহলে আমাদের দল ভালো অবস্থায় যাবে’
প্রথম দিনের চিত্র
একমাত্র টেস্টের প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৩৬২ রান। টেস্ট ক্রিকেটের প্রথম দিন এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। সর্বোচ্চ ৪ উইকেটে ৩৭৪ আসে চট্টগ্রামে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। প্রথম দিন ১১ ওভার কম খেলা হয়েছে। আর মিরপুরে প্রথম দিন দলীয় সর্বোচ্চ স্কোর। ২০১২ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৪ উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের করা ৩৬১ রান এত দিন ছিল সবার ওপরে। এই মাঠে স্বাগতিকদের আগের সর্বোচ্চ ৮ উইকেটে ৩৩০ রান, ২০১০ সালে করেছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
শান্তর শতক, জয়ের ফিফটির পর শেষ বিকেলে মুশফিক-মিরাজের দারুণ জুটিতে ম্যাচের নাটাই নিজেদের হাতে রেখে প্রথম দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। মুশফিক ৪১ ও মিরাজ ৪৩ রানে অপরাজিত আছেন। প্রথম দুই সেশনে একটি করে উইকেট হারালেও একমাত্র তৃতীয় সেশনে বাংলাদেশ ৩ উইকেট হারায়। শান্ত সর্বোচ্চ ১৪৩ রানের ইনিংস খেলেন। ৭৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন জয়। মুমিনুল ১৫ রান করলেও লিটন পেরোতে পারেননি দুই অঙ্কের ঘর (৯)। বোলিং-ফিল্ডিংয়ে আফগানরা ছিল এলোমেলো। নো-বল হয়েছে ১৫টি। অভিষিক্ত নিজাত মাসুদ সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন।
নিউজ /এমএসএম