


ঢাকার মিরপুরে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান সিরিজের একমাত্র টেস্ট। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠান আফগান অধিনায়ক হাসমতুল্লাহ শাহিদি। প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশ ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৬২ রান সংগ্রহ করেছে।
তবে শুরুতেই উইকেট খোয়াতে হয় বাংলাদেশকে। দুই ওপেনার জাকির হাসান ও মাহমুদুল হাসান জয় সূচনা ভালো করতে পারেননি। দলীয় মাত্র ৬ রানের মাথায় এই জুটি ভাঙে। দলের মাত্র ৬ রানে জাকির ব্যক্তিগত ১ রানেই ফেরেন। নিজাত মাসুদের বলে আফসার জাজাইকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। তার বিদায়ের পর অবশ্য জয় হাল ধরেন নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে।
শান্ত ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাট চালাতে থাকেন। তার দ্রুত গতিতে রান তোলায় প্রাথমিক বিপর্যয় কাটায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ শতরান পার করে আর কোনো উইকেট না হারিয়েই। শান্ত ফিফটি তুলে নেন। জয়ও তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারে তার তৃতীয় ফিফটি। তিনি সাতটি চারের সাহায্যে তার ফিফটি আদায় করেন।
শান্ত মাত্র ১১৮ বলে ১৮ চারে পান সেঞ্চুরির দেখা। এই অনবদ্য সেঞ্চুরি টেস্টের ম্যাড়মেড়ে ফরম্যাটে উপভোগ না করে উপায় আছে! যদিও নড়বড়ে ৯০ এর খপ্পরে পড়েছিল শান্ত। তাই দুই অঙ্ক থেকে তিন অঙ্কে যেতে তুলনামূলক একটু বেশি দেরিই হয়েছে।
টেস্ট ক্যারিয়ারে তৃতীয় সেঞ্চুরি করতে শান্ত খেলেছেন ১১৮ বল, মেরেছেন ১৮টি চার। স্বীকৃত ক্রিকেটে পাঁচ ইনিংসে তার তৃতীয় একশ ছোঁয়া ইনিংস এটি। দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
সবশেষ ২০২১ সালের জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টে ১১৭ রান করেছিলেন শান্ত। এরপর ১৩ ম্যাচের ২৫ ইনিংসে দুইবার পঞ্চাশ পেরোলেও তিন অঙ্ক ছুঁতে পারেননি তিনি। প্রায় ২৩ মাস পর ফের তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পেলেন তিনি। দেশের মাটিতে এটিই তার প্রথম সেঞ্চুরি। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটি তিনি করেন শ্রীলঙ্কায়, পাল্লেকেলেতে ১৬৩ রান।
এদিকে, প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশ ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৬২ রান সংগ্রহ করেছে। মিরপুরে প্রথম দিনে এটিই সর্বোচ্চ দলীয় স্কোরের রেকর্ড। ২০১২ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৪ উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের করা ৩৬১ রান এত দিন ছিল সবার ওপরে। এই মাঠে স্বাগতিকদের আগের সর্বোচ্চ ৮ উইকেটে ৩৩০ রান, ২০১০ সালে করেছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। সব মিলিয়ে টেস্টের প্রথম দিনে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ৩৭৪ রান, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০১৮ সালের চট্টগ্রাম টেস্টে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিন শেষে):
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৭৯ ওভারে ৩৬২/৫ (জয় ৭৬, জাকির ১, শান্ত ১৪৬, মুমিনুল ১৫, মুশফিক ৪১*, লিটন ৯*, মিরাজ ৪৩*; ইয়ামিন ৭-১-৩২-০, মাসুদ ১৩-২-৬৭-২, করিম ১০-৩-৩২-০, জাহির ১৬-০-৯৮-১, হামজা ২৪-১-৮৫-১, শাহিদি ৩-০-৯-০, রহমত ৬-১-৩০-১)
নিউজ/এম.এস.এম