রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আজ প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাচ্ছেন মৌলভীবাজারে বিএসএফের গুলিতে এক চোরাকারবারী নিহত বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র বানানো আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ: পর্যটনমন্ত্রী তারেক রহমানকে যেভাবে জেআইসিতে নির্যাতন করা হয় আমরা যেন সোনার খনির ওপর বসে আছি, অথচ চামচ দিয়ে খনন করছি: বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এমপি নাসের রহমানের অশ্লীল ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে সাভার থেকে গ্রেপ্তার-১ দলকে সুসংগঠিত ও জনমুখী করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান-এমপি মুজিব এমপি নাসের রহমানের এআই তৈরী অশ্লীল ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে ঢাকা থেকে আ/সামি গ্রে/প্তা/র ঠাকুরগাঁওয়ে ইজিবাইক সহ গ্রেপ্তার ৪ কামরুল-জসিম প্যানেলের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

নবীগঞ্জে কাল বৈশাখী ঝড়ে

শতাধিক গ্রাম লন্ডভন্ড, গাছ চাপায় নিহত এক

এম,এ আহমদ আজাদ,নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)
  • খবর আপডেট সময় : সোমবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৩
  • ২১১ এই পর্যন্ত দেখেছেন

নবীগঞ্জ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের উপর দিয়ে গত দুইদিন রাতে পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় তান্ডব চালিয়েছে কালবৈশাখী ঝড়। একইসঙ্গে ভারি বৃষ্টিপাত ও শিলাবৃষ্টি। উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ উপড়ে লোকমান মিয়া (৪০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের রোকনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঝড়ের আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে শতাধিক গ্রামের দুই শতাধিক কাঁচাপাকা ঘর-বাড়ি, শুয়ে পড়েছে বোরো ধান গাছ,শাক সবজি বাগান,ভুট্রা জমি ও সূর্য্যমুখী ফুলের বাগান।

জানা যায়,২১ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের রোকনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত লোকমান মিয়া রোকনপুর গ্রামের মৃত সরাজ মিয়ার ছেলে ও স্থানীয় রোকনপুর বাজারের লোকমান স্টোরের স্বত্বাধিকারী। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, রাত ১১টার দিকে বাড়ি পার্শ্ববর্তী বুড়িনাও গ্রাম থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। এ সময় হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। পথিমধ্যে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রোকনপুর গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী ছানু মিয়ার বাড়ির সামনে পৌঁছা মাত্রই প্রচন্ড ঝড়ে ইউক্যালিপটাস প্রজাতির একটি বড় গাছ উপড়ে লোকমান মিয়ার মাথায় পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঈদের দিন রাত ৯ টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দফায় দফায় কাল বৈশাখীর তান্ডব ও শিলাবৃষ্টিতে নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের দুই শতাধিক কাঁচাপাকা ঘর-বাড়ি লন্ডভন্ড হয়েছে । এরমধ্যে আউশকান্দি ইউনিয়নের দেওতৈল, মিঠাপুর, রায়পুর, মিনাজপুর, উমরপুর, আজলপুর, ইসলামপুর বনগ্রাম, পাহাড়পুর, পারকুল, দক্ষিন দৌলতপুর, উলুকান্দি, উত্তর দৌলতপুর, আমুকোনা , বেতাপুর, সৈয়দপুর, আলমপুর ও মুকিমপুর দীঘলবাক ইউনিয়নের দাউদপুর, দরবেশপুর, কারখানা, বরহমপুর, কসবা, কামারগাও, রায়ঘর, ফাদিল্লা, জামারগাওসহ ১০টি গ্রাম, ভাকৈর ইউনিয়নের বাগাউড়া, কাজির বাজার, আগনা, কাজিরগাও, হরিনগর, ১৫টি গ্রাম, ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের, পেঙ্গের বন, বক্তারপুর, লালাপুর, মল্লিকপুর, নাদামপুর, করিমপুর, পিরিজপুর, ঘোলডুবা, বোরহানপুর, ভুমিহীন পাড়া, কৈইখাই, কুর্শি ইউনিয়নের, ফুটারমাটি, রাইয়াপুর,কাদমা, কুর্শি, সাজলাপুর, ভুবিরবাক, দেবপাড়া ইউনিয়নের ফরিদপুর, সিট ফরিদপুর, নোয়াহাটি, রুস্তমপুর, বৈঠাখাল, ধর্মনগর,বেশ কয়েকটি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বেশি। ওইসব এলাকায় অনেকের ঘরের ছাউনি গেছে উড়ে। পানিতে শুয়ে পড়েছে বোরো ধান। বেশকিছু মৌসুমী ফল আম, লিচু, কলা বাগান, সবজি বাগান গুলো দুমড়ে মুচড়ে গেছে। গাছপালা ও বিদ্যূতের খুঁটি উপড়ে পড়ে অনেক জায়গায় যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের আহাজারি করতেও দেখা গেছে বিধ্বস্ত ঘরবাড়ির আঙ্গিনার খোলা আকাশের নিচে।

সাদুল্লাাপুরের গ্রামের কৃষক আমির আলী জানান, ঝড়ো হাওয়ায় জমিতে জমা পানিতে ধান শুয়ে পড়েছে। তাই পেটের ভাত জোগাতে ঈদের দিন ধান কেটে মাড়াই করেছি। তা না হলে প্রতিদিন রাতে যেভাবে ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হচ্ছে। শেষে এই ধানও ঘরে তুলতে পারব না।

একই উপজেলার ভাকৈর শেরপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল খালিক (৫০) জানান, ঝড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টিতে তার ৩ বিঘা জমির ধান গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার জোয়লভাঙ্গা হাওরের রায়পুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত দিলশাদ মিয়া মেম্বার বলেন, রবিবার রাতের তার ওয়ার্ডে কালবৈশাখীর ঝড়ের অনেক বাড়ির ঘরে ভেঙ্গে চুরামার হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষকে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে হচ্ছে।

একই উপজেলার পানিউমদা গ্রামের কৃষক আরজদ আলী (৫০) বলেন, ধান কাটার আগেই অগ্রিম কালবৈশাখী সব শেষ করে দিলো। এরই মধ্যে শিলাবৃষ্টিতে আমার তিনবিঘা জমির বেশিরভাগ ধান নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষক কাজল মিয়া (৫৫) বলেন, শিলাবৃষ্টিতে গাছ থেকে ধান ভেঙ্গে গেছে। আমার সবজি বাগান ধুমড়ে মুছড়ে গেছে সবকিছু এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া আর সম্ভব হবে না।

রুকনপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক জনাব আলী জানান, কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে তার লিচু ও কলা বাগান দুমড়ে মুচড়ে যাওয়ায় এ বছর উৎপাদন খরচ আর উঠবে না।

উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নোমান আহমদ জানান, ঝড়ে তার ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি লন্ডভন্ড হয়েছে। এসব পরিবারের মানুষেরা এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। এবং শিলা বৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বোর ধান ও সবজি বাগানের ক্ষতি পুষিয়ে উঠা অসম্ভব।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান শাহরিয়ার বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে ও শিলা বৃষ্টিতে শতাধিক কাঁচাপাকা ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ও একজন নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। আমরা সরকারী ভাবে নিহতের পরিবারকে সাহায্য সহযোগিতা করবো। এছাড়াও গাছপালা উপড়ে গেছে ও বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © ukbdtv.com
       
themesba-lates1749691102