


স্টাফ রিপোর্টার: দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, লোডশেডিং এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপির পূর্বঘোষিত সমাবেশ শুরু হয়েছে সোয়া দুইটায়। দীর্ঘদিন মাঠে জোরালো আন্দোলন-কর্মসূচি নেই বিএনপির। প্রায় আট মাস পর ঢাকার রাজপথে বড় সমাবেশ করছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) সকাল থেকেই ঢাকা মহানগরসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা খণ্ড-খণ্ড মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশস্থলে সমবেত হচ্ছেন। ইতিমধ্যে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ফকিরাপুল বিজয়নগর, কাকরাইল এলাকা ছাড়িয়েছে। ১২টার পর থেকেই পল্টন, কাকরাইল, নয়াপল্টন, বিজয়নগর এলাকায় বন্ধ রয়েছে গাড়ি চলাচল।
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির যৌথ আয়োজনে এই সমাবেশ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে বিকাল ৫টায়।
সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এদিকে সমাবেশকে ঘিরে মোড়ে মোড়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া সাদা পোশাকে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

বিএনপির নেতারা বলছেন, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর খাদ্যপণ্য নিয়ে যে বৈশ্বিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা মোকাবিলা করা যেত, যদি সরকারের সে দক্ষতা থাকত। কিন্তু তারা উন্নয়নের নামে একদিকে বড় বড় প্রকল্প নিয়েছে এবং পদে পদে সেসব প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিক বাড়িয়ে সেখান থেকে লুটপাট করেছে। নেতাদের অভিযোগ, শুধু বিদ্যুতের ‘কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট’ থেকেই ৭৮ হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে।
বিএনপির নেতারা সভা-সমাবেশে যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তার মূলে থাকছে সরকারের দুর্নীতি।
সর্বশেষ ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর বিএনপির আয়োজনে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জনসমাবেশ হয়। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে সেই কর্মসূচি ছিল।
সমাবেশের বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম বলেন, ‘ঢাকা শহরের প্রতিটি ওয়ার্ড ও থানা থেকে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা এই সমাবেশে যোগ দেবে। শুধু তাই নয়, ঢাকাবাসীরা যারা প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, তারাও এই সমাবেশে আসবেন বলে আমরা ধারণা করছি। এই সমাবেশে ব্যাপক লোকসমাগম ঘটবে।’
ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘স্মরণকালের লোকসমাগম ঘটবে সমাবেশে। সেভাবে আমরা সব প্রস্তুতি নিয়েছি। ঢাকা মহানগর ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা যেভাবে এই সমাবেশে আসবে তাতে দুপুরের মধ্যেই এই এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হবে।
আমান বলেন, ‘আমাদের এই সমাবেশ হবে শান্তিপূর্ণ। ঐতিহাসিক এই সমাবেশের মাধ্যমে আমরা সরকারের কাছে বার্তা দেব-অনতিবিলম্বে ক্ষমতা ছেড়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন।
ইউকেবিডিটিভি/ বিডি / এমএসএম