সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ডিডাফের উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের সৃজনশীল শিল্পকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিস্তৃতভাবে উপস্থাপনের অঙ্গীকার আজ প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাচ্ছেন মৌলভীবাজারে বিএসএফের গুলিতে এক চোরাকারবারী নিহত বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র বানানো আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ: পর্যটনমন্ত্রী তারেক রহমানকে যেভাবে জেআইসিতে নির্যাতন করা হয় আমরা যেন সোনার খনির ওপর বসে আছি, অথচ চামচ দিয়ে খনন করছি: বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এমপি নাসের রহমানের অশ্লীল ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে সাভার থেকে গ্রেপ্তার-১ দলকে সুসংগঠিত ও জনমুখী করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান-এমপি মুজিব এমপি নাসের রহমানের এআই তৈরী অশ্লীল ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে ঢাকা থেকে আ/সামি গ্রে/প্তা/র

পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে

গৎবাঁধা পদ্ধতিতে প্রকল্প চালানো যাবে না- ব্যারিস্টার মীর হেলাল এমপি

মোঃ রেজুয়ান খান
  • খবর আপডেট সময় : শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬
  • ৫৪ এই পর্যন্ত দেখেছেন

 বৃহস্পতিবার (২৫ জুন)  বেইলি রোডস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবনের অডিটোরিয়ামে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পর্যালোচনা সভা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত কঠোর ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিচালিত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প কাজে বারবার বিভিন্ন দোহাই দেখিয়ে সরকারের নির্দিষ্ট সময়সীমা বৃদ্ধি করা একদম উচিত হবে না।” তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে প্রকল্প কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কড়া নির্দেশ প্রদান করেন।

পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “পাহাড়ি জনজীবনে শুধুমাত্র তালিকা তৈরি করে চাল, ডাল বা খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করলেই চলবে না। পাহাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে মানবিক সাহায্য হিসেবে কেবল ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং তাদের স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রয়োজনীয় ও বাস্তবমুখী স্কিম বা কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।”

 মীর হেলাল সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার গুরুত্ব উল্লেখ করে বলেন, “প্রপার রোডম্যাপ (সঠিক কর্মপরিকল্পনা) ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।” তিনি ইনফ্রাস্ট্রাকচার (অবকাঠামো) এর কাজ থেকে শুরু করে সকল প্রকার উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করার নির্দেশ দেন। প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল আরও স্পষ্ট করে বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে গৎবাঁধা পদ্ধতিতে প্রকল্প চালানো আর যাবে না। বরাদ্দ, মাস্টাররোল বা গাইডলাইন অনুযায়ী শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে কাজ করতে হবে। পাহাড়ি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন যেন বাস্তবিক অর্থেই দৃশ্যমান হয়, এমন স্কিম নিতে হবে। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে আলোকিত করা, শিক্ষিত করা এবং তাদের উৎপাদিত পণ্য ও সম্ভাবনাকে বিশ্বদরবারে এক্সপ্লোর বা বিকশিত করে দিতে চায় বর্তমান সরকার। এই সরকার কাজে বিশ্বাসী, মুখে ফাঁকা কথায় নয়।” তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, যেসব প্রকল্প গ্রহণ করলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রকৃতপক্ষে সুফল ও উন্নয়ন হবে, ঠিক তেমন প্রকল্পই যেন গ্রহণ করা হয়।

উল্লেখ্য, প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন এমপি পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি—এই তিন জেলার দুর্গম এলাকায় বসবাসরত গ্রামীণ জনগণের চরম দারিদ্র্য হ্রাস করার লক্ষ্যে কাজ করছেন। পাশাপাশি কৃষকদের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও বিপণন কার্যক্রম সহজীকরণের উদ্দেশ্যে উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামীণ সড়কসমূহের সম্প্রসারণ, সংস্কার, মৌলিক ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ সম্প্রসারণের জন্য ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, যাতে ভূমিহীন ও ক্ষুদ্র প্রান্তিক পাহাড়ি কৃষকদের জীবনমান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়। তিনি বিশ্বাস করেন, আগে পাহাড়ি জনপদের জীবনমান উন্নয়ন করতে হবে, তা হলে পর্যটন শিল্পের প্রসারসহ বাকি উন্নয়নগুলো আপনাআপনি দৃশ্যমান হয়ে উঠবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এর সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ মনিরুল ইসলাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের পাহাড়ি মানুষের প্রতি ভালোবাসা ফুটে ওঠেছে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি’র গৃহীত এক উদ্যোগের কারণে। ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি’র ১২ ঘণ্টার জাদুকরী উদ্যোগে রাঙ্গামাটি জেলার খিয়াং পাড়ায় আশার আলো জ্বলে ওঠলো। একজন প্রতিমন্ত্রী সাধারণ ও দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য কতটা আপন এবং বিশ্বাসের আশ্রয়স্থল হতে পারেন, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের দুর্গম পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত “বড় কুক্যাছড়ি খিয়াং পাড়া”-য়।

প্রায় ৬০-৭০টি পরিবারের ৩ থেকে ৪ শত মানুষের এই জনপদটি দীর্ঘ ৪০-৪৫ বছর ধরে আধুনিক নাগরিক সমাজ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিল। সেখানে ছিল না কোনো মোবাইল নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎ কিংবা সুপেয় পানির ব্যবস্থা। পাড়ার নারীদের প্রায় ৮-৯ শত ফুট নিচে গভীর পাহাড়ি ঝিরিতে নেমে দৈনন্দিন ব্যবহারের ও খাওয়ার পানি সংগ্রহ করতে হতো, যা ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ। সন্ধ্যা বা মধ্যরাতে বন্যপ্রাণীর ভয়ে ঝিরিতে নামা অসম্ভব ছিল এবং এই দুর্গম পথ পাড়ি দিতে গিয়ে অনেকেই অতীতে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। দীর্ঘ চার দশকে বহু বাজেট বরাদ্দ হলেও অতীতে বাস্তব কোনো সুফল পায়নি এই খিয়াং পাড়ার মানুষ।

সম্প্রতি এই চরম দুর্ভোগের বিষয়টি রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অহি আহাদ ও সাধারণ সম্পাদক নাইমুল ইসলাম রনি মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি-কে অবহিত করেন। জনমানুষের দুঃখ গোচাতে প্রতিমন্ত্রী আর এক মুহূর্তও দেরি করেননি। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করেন।

প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশের পরপরই রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার রেজাউল করিম এবং পরিষদের সদস্য প্রতুল দেওয়ানসহ উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দল উক্ত দুর্গম খিয়াং পাড়া সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং তাদের সমস্যা সমাধানের কাজ শুরু করেন। প্রতিমন্ত্রীর এমন দ্রুত ও মানবিক পদক্ষেপে খিয়াং পাড়ার বাসিন্দারা ভীষণভাবে উপকৃত হন।

খিয়াং পাড়ার সর্দার (কারবারি) প্রুথোই খিয়াং-এর নেতৃত্বে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি’র কাছে তাদের যাতায়াতের জন্য রাস্তা ও ব্রিজ নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং দ্রুত টেকসই সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করাসহ অন্যান্য মৌলিক নাগরিক সুবিধা প্রদানের দাবি জানান, যা পূরণে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © ukbdtv.com
       
themesba-lates1749691102