সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ডিডাফের উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের সৃজনশীল শিল্পকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিস্তৃতভাবে উপস্থাপনের অঙ্গীকার আজ প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাচ্ছেন মৌলভীবাজারে বিএসএফের গুলিতে এক চোরাকারবারী নিহত বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র বানানো আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ: পর্যটনমন্ত্রী তারেক রহমানকে যেভাবে জেআইসিতে নির্যাতন করা হয় আমরা যেন সোনার খনির ওপর বসে আছি, অথচ চামচ দিয়ে খনন করছি: বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এমপি নাসের রহমানের অশ্লীল ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে সাভার থেকে গ্রেপ্তার-১ দলকে সুসংগঠিত ও জনমুখী করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান-এমপি মুজিব এমপি নাসের রহমানের এআই তৈরী অশ্লীল ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে ঢাকা থেকে আ/সামি গ্রে/প্তা/র

ব্রিটিশ বাংলাদেশি কলির সংগ্রাম নিয়ে লেখা বই

ব্রিটিশ নাগরিকত্ব জন‍্য বিয়ে প্রকাশিত

কামরুল হাসান শাওন
  • খবর আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭৯ এই পর্যন্ত দেখেছেন

লন্ডনে বসবাসরত এক ব্রিটিশ বাংলাদেশি নারীর জীবনসংগ্রামের গল্প উঠে এসেছে নতুন এক বইয়ে, যেখানে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে প্রবাসী নারীদের এক কঠিন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।

মাহিদা রহমান কলি, যিনি পূর্ব লন্ডনের রমফোর্ড এলাকায় থাকেন, মাত্র ১৯ বছর বয়সে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। তবে বিয়ের পরপরই তার প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে ফারাক স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

তিনি জানান, বিয়ের প্রথম মাস থেকেই তার মনে সন্দেহ তৈরি হয় যে স্বামীর মূল আগ্রহ ছিল ভালোবাসা নয়, বরং ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়া। এর কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। “আমি বুঝতে পারছিলাম, আমাকে ভালোবেসে নয়—পাসপোর্টের জন্য বিয়ে করা হয়েছে,” বলেন কলি।

কলির ভাষ্য অনুযায়ী, সংসার টিকিয়ে রাখতে তিনি চেষ্টা চালিয়ে যান। একদিকে কাজ করে সংসার চালানো, অন্যদিকে ঘরে ফিরে স্বামীর সন্দেহ, জিজ্ঞাসাবাদ এবং শারীরিক নির্যাতনের মুখোমুখি হওয়া—এই দ্বৈত চাপের মধ্যে দিয়ে তাকে দীর্ঘ সময় পার করতে হয়।

তিনি আরও বলেন, “প্রতিদিন কাজ শেষে বাসায় ফিরলে আমাকে জিজ্ঞেস করা হতো কার সঙ্গে ছিলাম। অনেক সময় শারীরিকভাবে আঘাতও করা হতো।”

এই দাম্পত্য জীবনে তাদের এক সন্তান জন্ম নেয়। পরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠলে ২০২১ সালে তিনি পুলিশের সহায়তা নেন এবং সম্পর্কের ইতি টানেন। এ সময়ের মধ্যেই তার স্বামী ব্রিটিশ পাসপোর্ট লাভ করেন।

এরপর দুই সন্তানকে নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন কলি। এককভাবে সন্তানদের লালন-পালন, আর্থিক চাপ এবং সামাজিক বাধা—সবকিছু মোকাবিলা করে তিনি ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।

তার জীবনের এই অভিজ্ঞতাগুলো স্থান পেয়েছে “কারলেট থ্রেডস” নামে একটি বইয়ে। বইটিতে তার নির্যাতনের অভিজ্ঞতা, মানসিক সংগ্রাম এবং ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প তুলে ধরা হয়েছে।

কলি বলেন, এই বই লেখার উদ্দেশ্য হলো অন্যদের জানানো যে কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে নতুন করে জীবন শুরু করা সম্ভব। “আমি দেখাতে চেয়েছি—সবকিছু ভেঙে গেলেও আবার শুরু করা যায়, বিশেষ করে সন্তানের জন্য,”

তিনি বলেন তার এই অভিজ্ঞতা শুধু একটি ব্যক্তিগত কাহিনি নয়; বরং প্রবাসে থাকা অনেক নারীর নীরব বাস্তবতাকেও সামনে নিয়ে আসে।

কলির গল্প মনে করিয়ে দেয়, প্রতিকূলতা যত গভীরই হোক, দৃঢ়তা থাকলে নতুন পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © ukbdtv.com
       
themesba-lates1749691102