রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০২:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র বানানো আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ: পর্যটনমন্ত্রী তারেক রহমানকে যেভাবে জেআইসিতে নির্যাতন করা হয় আমরা যেন সোনার খনির ওপর বসে আছি, অথচ চামচ দিয়ে খনন করছি: বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এমপি নাসের রহমানের অশ্লীল ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে সাভার থেকে গ্রেপ্তার-১ দলকে সুসংগঠিত ও জনমুখী করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান-এমপি মুজিব এমপি নাসের রহমানের এআই তৈরী অশ্লীল ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে ঢাকা থেকে আ/সামি গ্রে/প্তা/র ঠাকুরগাঁওয়ে ইজিবাইক সহ গ্রেপ্তার ৪ কামরুল-জসিম প্যানেলের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত ওয়েলসবাসীর ভালোবাসায় রাইট অনারেবল রডরি মর্গানের ভাস্কর্য উদ্বোধিত ঠাকুরগাঁওয়ে ইয়াবাসহ যুবক আটক

যে কারনে প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীর সুচনীয় পরাজয়

কিবরিয়া চৌধুরী
  • খবর আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৪
  • ৩০৮ এই পর্যন্ত দেখেছেন
সুচনীয় পরাজয় ঘটলো হেভিওয়েট প্রার্থী বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মোঃ মাহবুব আলীর। এলাকায় প্রচুর উন্নয়ন সাধিত হবার পরও কি কারনে তার এতোবড় পরাজয় ঘটলো তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার শেষ নেই। তার পরাজয়ের বিষয়টি টক অব দ্যা টাউনে রূপ নিয়েছে।
আওয়ামীলীগের সাধারণ নেতা কর্মীরা বলেন, ত্যাগী নেতা কর্মীদের অবমুল্যয়ন ও ত্যাগী নেতা-কর্মীদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারনেই সূচনীয় পরাজয় ঘটেছে সাবেক মন্ত্রী মাহবুব আলীর। দলের সাধারণ কর্মীরা বলেন, চুনারুঘাট ও মাধবপুর এর কয়েজন উঠতি নেতার কারনে দলের প্রবীন নেতা কর্মীরা কোনঠাসা ছিলেন। দল বা এলাকার প্রয়োজনে প্রবীন নেতারা প্রতিমন্ত্রীর ধার কাছে ঘেঁষতে পারেন নি। তারা মন খুলে কথা বলার সুযোগ পাননি। অপরদিকে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের সাথে দলের পদধারীদের নানা বিষয় নিয়ে মত বিরোধ ছিল, মন কষাকষি ছিল। এ সমস্থ বিরোধ বা ব্যবধান মেটাতে কোন ভূমিকা নেননি মোঃ মাহবুব আলী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একাধিক নেতা বলেন, প্রতিমন্ত্রীর সাথে তারা কখনও হাত মেলাতে পারেননি, দুঃখের কথা বলতে পারেননি। আওয়ামী লীগ সমর্থীত তরুন কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও কয়েকজন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করে ১০ বছর কাটিয়েছেন মাহবুব আলী। আর কারও সাথে দেখা বা কথা বলার সুযোগ হয়নি তার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, মাধবপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহ মুসলিম ও চুনারুঘাট আওয়ামীলীগ সভাপতি এডঃ আকবর হোসেইন জিতু বিগত ১০ বছর যাবৎ প্রতিমন্ত্রীর সাথে কোন ধরনের যোগাযোগ রাখেন নি। গত উপজেলা নির্বাচনে দলের টিকিট না পেয়ে চুনারুঘাট আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের স্বতন্ত্র নির্বাচন করে সামান্য ভোটে হেরে যান এবং দলীয় কর্মকান্ড থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। আবু তাহের দলের গ্রহনযোগ্য নেতা। ৭ জানুয়ারীর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শাহ মুসলিম, আকবর হোসেন জিতুসহ তাদের বিপুল সংখ্যক সমর্থক প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন তবে আবু তাহের নৌকার সাথে সার্বক্ষনিক ছিলেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন চুনারুঘাট আওয়ামীলীগের সভাপতি আকবর হোসেইন জিতু, মাধবপুর সভাপতি শাহ মুসলিম, মোস্তফা শহীদ পুত্র নিজামুল হক রানা, সাবেক বিচারপতি আব্দুল হাইর পুত্র ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল হাই রাজিব, মাধবপুরের সন্তান অসীম চৌধুরীসহ ৫/৬ জন নেতা। মনোনয়ন বঞ্চিত কেউই মাহবুব আলীর পক্ষে জড়ালো ভুমিকা নেননি। এ সুযোগে ফেসবুক সেলিব্রেটি ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন দলমত নির্বিশেষে সকলকে কাছে টেনে নেন। বিশেষ করে তরুণরা ব্যারিস্টার সুমনকে ভালোবাসার আসনে স্থান দেয়। ফেসবুকে কয়েক হাজার আইডি তার পক্ষে প্রচারনা করেছে। ব্যরিস্টার সুমন এলাকায় পুল কালবার্ড স্থাপন করে সাধারন মানুষের কাছাকাছি চলে যান। তরুনরা ঝুঁকে পড়ে সুমনের দিকে।
চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-৪ আসন। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১০ হাজার ৭২০ জন। এ আসনে বিগত সময়গুলোতে বরারবই আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সীমান্ত ও চা বাগান ঘেরা হবিগঞ্জ-৪ আসন। চুনারুঘাট উপজেলায় রয়েছে ২২ টি চা বাগান এবং মাধবপুর উপজেলায় আছে ৪ টি চা বাগান। চা বাগানও মাইনোরটি ভোটাররা বরাবরই নৌকায় ভোট দেন কিন্তু এবার তারা ব্যরিস্টার সুমনের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামীলীগের এনামুল হক মোস্তফা শহীদ এ আসনের একছত্র অধিপতি ছিলেন। এ্যাডভোকেট এনামুল হক ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন থেকে শুরু করে ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর টানা দুইবার সংসদ সদস্য হন মাধবপুরের বাসিন্দা এডঃ মোঃ মাহবুব আলী।
অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন আসনটি কেড়ে নেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২টি কেন্দ্র বাদে নৌকার সুচনীয় পরাজয় ঘটে। মাহবুব আলী নিজ কেন্দ্রেও পাস করতে পারেননি। দুই উপজেলা মিলে মাহবুব আলী নৌকা পেয়েছে ৬৯ হাজার ৮৪৩ ভোট। ব্যরিস্টার সাইদুল হক সুমনের ঈগল পেয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ১০০ ভোট।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © ukbdtv.com
       
themesba-lates1749691102