


এসজিএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, কৈলাশটিলা-২নং কূপের ৩১২৬ থেকে ৩১৩০ মিটার গভীরতায় গত ৯ ও ১০ নভেম্বর পরীক্ষা করে প্রায় ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়। তারপর কূপের কম্প্রেশন কাজ শুরু করেছি। গতকাল কম্প্রেশন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন রিজারভারে গ্যাস ক্লিনাপ হচ্ছে। এই কাজ সম্পন্ন হলে কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে। ‘আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, এই কূপে ওয়ার্কওভার করে যে গ্যাস আমরা পাচ্ছি সেটা থেকে বলা যায়, প্রায় ৯ হাজার ৯০০ কোটি টাকার সম্পদ এখানে আছে। এই গ্যাস উত্তোলন করলে আশা করা যায়, ১৫ থেকে ২০ বছর চলবে। সিলেট গ্যাস ফিল্ড থেকে বর্তমানে ৯৩ মিলিয়ন গ্যাস প্রতিদিন উৎপাদন করছি।
এসজিএফএল সূত্র জানায়, জ্বালানি সংকট নিরসনে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে দেশের ৪৬টি কূপ অনুসন্ধান, খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের আওতাধীন ১৪টি কূপ খনন ও পুনঃখননের কাজ হয়। সিলেটের এই ১৪টি কূপের মধ্যে তিনটি থেকে গত বছর থেকে উৎপাদন শুরু হয়। বুধবার থেকে কৈলাশটিলার কূপে উৎপাদন শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য সিলেট গ্যাসফিল্ড লিমিডেটের আওতাধীন গোলাপগঞ্জের কৈলাশটিলা-২নং কূপ থেকে দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল। গত ২৭ জুলাই এই কূপ পুনঃখনন শুরু হয়। খননের পর চলতি সপ্তাহে এই কূপে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। এই কূপের একটি লেয়ার থেকে আগে গ্যাস উৎপাদন করা হয়েছিল। গ্যাস উৎপাদনের কিছুদিন পর এই লেয়ারে পানি এসে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা এই কূপ পুনঃখনন কাজে আরও একাধিক লেয়ারের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে গত ৯ ও ১০ নভেম্বর পরীক্ষা করে গ্যাস পাওয়া গেছে।
এসজিএফএল সূত্রে আরও জানা যায়, ১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে প্রথম গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর একের পর এক গ্যাসক্ষেত্রের খোঁজ মিলে। বর্তমানে এসজিএফএলের আওতায় পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র আছে। সেগুলো হলো- হরিপুর গ্যাস ফিল্ড, রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড, ছাতক গ্যাস ফিল্ড, কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ড ও বিয়ানীবাজার গ্যাস ফিল্ড। এর মধ্যে ছাতক গ্যাস ফিল্ড পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। বাকিগুলোর মধ্যে ১৩টি কূপ থেকে বর্তমানে প্রতিদিন ৯৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। গত বছর সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের আওতাধীন সিলেট-৮, কৈলাশটিলা-৭ ও বিয়ানীবাজার-১ নামে তিনটি পরিত্যক্ত কূপ পুনঃখনন করা হয়। বর্তমানে এসব কূপ থেকে দৈনিক ১৬ থেকে ১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হচ্ছে।
সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী গত ১৪ নভেম্বর এই কৈলাশটিলার ২ কূপের ওয়ার্কওভার উদ্বোধন করেন। বাপেক্সের মাধ্যমে আমরা ওয়ার্কওভারের কাজ শুরু করি। এই কর্মকাণ্ডে বাপেক্স এবং সিলেট গ্যাস ফিল্ড সম্মিলিতভাবে কারিগরি সহযোগিতা করেছে। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় ও পেট্রোবাংলা সার্বিক সহযোগিতা করেছে।
তিনি আরও বলেন, কমিটমেন্ট অনুযায়ী আমরা ২০২৫ সাল নাগাদ ৬১৮ মিলিয়ন গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছি। সিলেট গ্যাস ফিল্ডের পক্ষ থেকে ৭টি কূপে ওর্য়াকওভার ও খননের মাধ্যমে ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয়গ্রিডে দেব বলে প্রত্যাশা করছি। এবং সে প্রত্যাশা পূরণে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এই কৈলাশটিলা ২ খননের কাজ শেষ হলেই কৈলাশটিলা ৮ এ কাজ শুরু হবে। সেখানেও আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। আগামী মাসেই আমরা কৈলাশটিলা ৮ এ কাজ শুরু করতে পারব।
আরও ভালো খবর হচ্ছে, রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্রে রাশিদপুর-২ এ আমরা ডিসেম্বর মাসে প্রথম সাপ্তাহে কাজ শুরু করব। সেখান থেকে আগামী তিন মাসের মধ্যে আমরা ১৫ মিলিয়ন গ্যাস উত্তোলন করতে পারব। এ ছাড়া রশিদপুর ৯ এর খনন কাজ শুরু হয়ে গেছে। সেটার পাইপলাইনের কাজও অর্ধেক হয়ে গেছে। সর্বোপরি বলা যায়, আগমী তিন মাসের মধ্যে সিলেট গ্যাস ফিল্ডের পক্ষ থেকে কৈলাশটিলা ৮, রশিদপুর ২, ৯, ৫ এবং সিলেট ৫ এর কূপগুলোর ওয়ার্কওভারগুলো সুন্দরভাবে করা যাবে। আমাদের হরিপুর গ্যাসক্ষেত্রে সিলেট ১০ কূপ খনন কাজ চলছে। এটিও প্রধানমন্ত্রী গত ১৪ নভেম্বর উদ্বোধন করেছেন। সেই কূপে আগামী এ সপ্তাহের মধ্যে আমরা ট্যাস্টিং করব। সেটা থেকে ভালো ফলাফলের আশা করছি আমরা।