


ভারত বিশ্বকাপে নিজেদের সপ্তম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে চতুর্থ জয় তুলে নিয়েছে আফগানরা। শুক্রবার (৩ নভেম্বর) লক্ষনৌয়ে ৭ উইকেটের জয়ে সাত ম্যাচে চার জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ৫ম স্থানে উঠে এল আফগানরা। সামনের দুইটি ম্যাচ জিতলে তাদের সেমির রাস্তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। আর একটি জিতলে নির্ভর করতে হবে অনেক পরিসংখ্যানের উপর। কিন্তু ম্যাচ গুলো মোটেও সহজ হবে না আফগানদের জন্য। কারণ তাদের সামনে থাকবে অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মত জয়ান্টরা।
এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে আফগান বোলারদের মোকাবিলা করতে রীতিমত ধুঁকতে হয় ডাচ ব্যাটারদের। নিজেদের ভুল বোঝাবুঝিতে একের পর এক রান আউট হতে থাকে তারা। প্রথম টপ অর্ডার পাঁচ ব্যাটারদের মধ্যে চারজনই রান আউটের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন। যা ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। সাইব্রান্ড এঙ্গেলব্রেখটের ফিফটির উপর ভর করে ৪৬.৩ ওভারে মাত্র ১৭৯ রানেই গুটিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৮ রান করেন সাইব্রান্ড এঙ্গেলব্রেখট। ১৮০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে রহমত শাহ এবং অধিনায়ক হাশমতুল্লাহ শহিদীর ফিফটির উপর ভর করে ৩১.৩ ওভারেই নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আফগানরা। ম্যাচ সেরা হন মোহাম্মদ নবী।
ডাচদের দেয়া ১৭৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে দেখেশুনে খেলা শুরু করেন দুই ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজ এবং ইব্রাহিম জাদরান। কিন্তু ষষ্ঠ ওভারে ফন বিকের বলে দলীয় ২৭ রানে ডাচ অধিনায়ক স্কটের হাতে তালুবন্দি হয়ে নিজের উইকেট খোয়ান গুরবাজ। তার ব্যাট থেকে আসে ২০ রান। এরপর দ্বিতীয় পাওয়ার প্লের প্রথম বলেই ফন ডার মারউয়ের বলে বোল্ড আউট হন আরেক ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান। ফেরার আগে করেন ২০ রান। এরপর ৭৪ রানের পার্টনারশিপ করে দলীয় ১২৯ রানে ৫২ রান করে করে সাকিব জুলফিকারের বলে কট এন্ড বোল্ড আউট হন রহমত শাহ। এরপর দলকে জয়ের বন্দর নিয়ে মাঠ ছাঁড়েন অধিনায়ক হাশমতুল্লাহ শহিদী এবং আজমতুল্লাহ ওমরজাই। শেষ বলে চার হাঁকিয়ে দলকে এই জয়ের স্বাদ দেন শহিদী। ডাচদের হয়ে একটি উইকেট নেন ফন বিক, ফন ডার মারওয়ে এবং সাকিব জুলফিকার।
এর আগে আফগানদের বিপক্ষে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই অভিজ্ঞ ব্যারেসিকে হারায় ডাচরা। মুজিবের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ার আগে তিনি করেন ১ রান। এরপর ম্যক্স ও’ডাউডকে নিয়ে দলের হাল ধরেন কলিন অ্যাকারম্যান। তাদের ৭০ রানের জুটিতে দারুণ ভাবে ম্যাচে ফিরে আসে ডাচরা। কিন্তু এরপরও বেশিদুর এগোতে পারেনি ডাচদের ইনিংস। পরপর চার ব্যাটার রান আউট হয়ে ফিরে গেলে চাপে পড়ে ডাচরা। একে একে রান আউট হন ম্যাক্স ও’ডাউড, কলিন অ্যাকারমান, সাইব্রান্ড এঙ্গেলব্রেখট ও অধিনায়ক স্টক অ্যাডওয়ার্ডস। বাকিদের ক্রিজে থিতু হতে দেন নি মোহাম্মদ নবী ও নূর মোহাম¥দ। দুজনে ভাগাভাগি করে নেন শেষ পাঁচ উইকেট। এঙ্গেলব্রেখটের ফিফটি ছাড়াও ৪২ রান আসে ম্যাক্স ও’ডাউডের ব্যাট থেকে। কলিন অ্যাকারম্যান করেন ২৯ রান। শেষদিকে ফন মারউই ও আরিয়ান দত্তের কল্যাণে লড়াই করার মত পুঁজি পায় ডাচরা।
নিউজ /এমএসএম