রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র বানানো আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ: পর্যটনমন্ত্রী তারেক রহমানকে যেভাবে জেআইসিতে নির্যাতন করা হয় আমরা যেন সোনার খনির ওপর বসে আছি, অথচ চামচ দিয়ে খনন করছি: বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এমপি নাসের রহমানের অশ্লীল ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে সাভার থেকে গ্রেপ্তার-১ দলকে সুসংগঠিত ও জনমুখী করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান-এমপি মুজিব এমপি নাসের রহমানের এআই তৈরী অশ্লীল ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে ঢাকা থেকে আ/সামি গ্রে/প্তা/র ঠাকুরগাঁওয়ে ইজিবাইক সহ গ্রেপ্তার ৪ কামরুল-জসিম প্যানেলের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত ওয়েলসবাসীর ভালোবাসায় রাইট অনারেবল রডরি মর্গানের ভাস্কর্য উদ্বোধিত ঠাকুরগাঁওয়ে ইয়াবাসহ যুবক আটক

মৌলভীবাজারে আগুনে পুড়ছে সংরক্ষিত বন: প্রাণ রক্ষায় বন্যপ্রাণী লোকালয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • খবর আপডেট সময় : সোমবার, ১৩ মার্চ, ২০২৩
  • ২০৮ এই পর্যন্ত দেখেছেন

মাকাল জোরায় প্রায় ৪০ হেক্টর বন আগুনে পুড়েছে। আগুন নেভাতে বন বিভাগের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। তবে বন বিভাগ বলছে, মাত্র চার-পাঁচ হেক্টর বন পুড়েছে। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।‘একটি বন কেউ তৈরি করতে পারবে না। কিন্তু ধ্বংস করা যায় খুব সহজে। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো গাছপালা লতাপাতা হচ্ছে বন্যপ্রাণীর আবাস্থল। এগুলো যখন আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে, তখন প্রাণীগুলো কোথায় যাবে? বন বিভাগের উচিত এরকম গভীর বনকে প্রাকৃতিকভাবে রাখা। বন্যপ্রাণী এখন হুমকির মুখে। অচিরেই।

সমনভাগ বনাঞ্চলে প্রায় ৬০৩ প্রজাতির উদ্ভিদ এবং উভচর সরীসৃপ, পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণির সমন্বয়ে মোট ২০৯ প্রজাতির মেরুদণ্ডী বন্যপ্রাণী আছে। এর মধ্যে ২০ প্রজাতির উভচর, ৪৫ প্রজাতির সরীসৃপ, ১১৩ প্রজাতির পাখি ও ৩১ প্রজাতির স্তন্যপায়ীসহ অসংখ্য বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও প্রজননক্ষেত্র। মৌলভীবাজারের জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত পাথারিয়া হিলস রিজার্ভ ফরেস্টে কয়েকদিন ধরে আগুন জ্বলছে।

প্রত্যক্ষদর্শী পরিবেশকর্মী খুরশেদ আলম বলেন, ‘মিশ্র চিরসবুজ সমনভাগ বিটের ধলছড়ি ও মাকাল জোরা এলাকায় প্রায় ৪০ হেক্টর বনভূমি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এক পাশে এখনো জ্বলছে আগুন। আগুনে পুড়ে অজগর সাপ, চশমাপরা হনুমান, মায়া হরিণ, কচ্ছপ, বনরুই, সজারুসহ বিভিন্ন সরীসৃপ প্রজাতির বিরল কীটপতঙ্গ এবং বেশ কিছু প্রজাতির বৃক্ষের ক্ষতি হয়েছে। এদিকে বনের একপাশে অবাধে চলছে বাঁশ কাটার মহোৎসব। প্রায় ৪০ শ্রমিক দিয়ে সরকারি সম্পত্তিগুলো বিনষ্ট করা হচ্ছে। এসব বাঁশ পরবর্তীতে আগুন দিয়ে পোড়ানো হবে।

স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা জানান, ওই এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো কয়েক হাজার গাছ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পরিবেশগতভাবে মিশ্র চিরসবুজ সমনভাগ বনাঞ্চলের এ অংশটি ইন্দো-বার্মা জীববৈচিত্র্য হটস্পটের একটি অংশ এবং এটি ভারত-বাংলাদেশের আন্ত-সীমান্ত ব্যাপী ছয়টি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যকার একটি।
স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস আলী বলেন, ‘আমি জ্বালানি কাঠ ও নিজের কাজের জন্য বাঁশ নিতে মাঝে মধ্যে বনে আসা যাওয়া করি। বনটি এমন ছিল না। এটি প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো। তবে এখন আর আগের মতো নেই। বনে হাতিও থাকে না। কারণ, থাকার কোনো পরিবেশ নেই। আগে অনেক ধরনের বন্যপ্রাণী ও মায়াহরিণ দেখা যেত।

স্থানীয় বাসিন্দা কামাল আহমদ বলেন, ‘চার-পাঁচ দিন আগে বনে আগুন দেখতে পাই। আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় বনের অনেক জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি বন বিভাগকে জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে এখানকার বিভিন্ন বিরল প্রজাতির প্রাণীসহ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এ বিটের প্রায় অর্ধেক জায়গা এখন খাসিয়াদের দখলে। তারা প্রায় ৯০০ হেক্টর বনভূমি দখল করে গড়ে তুলেছে পানের জুম। দিন দিন বাঁশ ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে ধ্বংস করেছে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থাল। এখন বন্যপ্রাণীগুলো এই এলাকা থেকে চলে যাচ্ছে।

বড়লেখা রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন দাস বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সিলেট বন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান তৌফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি খবর পেয়েছি। যেকোনো অসাবধানতায় হয়তো এ আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। ঝোপঝাড়, গাছের ডালপালা কাটা হয়েছে। এজন্য আগুন লেগে ওই এলাকা পুড়ে গেছে। আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছি।

বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, আমি বনে আগুন লাগার বিষয়টি জেনেছি। যেহেতু সংরক্ষিত বন এলাকায় আগুন লেগেছে এতে সরীসৃপ প্রজাতির প্রাণীসহ বিভিন্ন কীটপতঙ্গ এবং পাখির বাসার ব্যাপক ক্ষতি হবে।

 

নিউজ /এমএসএম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © ukbdtv.com
       
themesba-lates1749691102