শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৩০ অপরাহ্ন

মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কীভাবে ভারতে থাকছেন শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • খবর আপডেট সময় : শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  • ১০৯ এই পর্যন্ত দেখেছেন

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওইদিনই ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আশ্রয় নেন তিনি। শেখ হাসিনা যখন ভারতে প্রবেশ করেন তখন তার কাছে ছিল কূটনৈতিক লাল পাসপোর্ট। এই পাসপোর্ট নিয়ে যাওয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভারতে ৪৫ দিন থাকার অনুমতি পান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ৪৫ দিনের এই মেয়াদ শেষ হচ্ছে। হাসিনার কাছে থাকা কূটনৈতিক পাসপোর্ট ইতোমধ্যে বাতিল করে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে শুক্রবার থেকে দেশটিতে থাকার আর কোনো বৈধ অনুমোদন তার কাছে থাকছে না।

তবে ভারত কি হাসিনাকে এখন বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেবে? উত্তর হলো ‘না’। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জি নিউজকে জানিয়েছেন, কূটনৈতিক পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ফিরিয়ে দেয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এর বদলে হাসিনাকে তিব্বতের ধর্মগুরু দালাই লামার মতো হয়ত বিশেষ রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়া হতে পারে। যিনি ভারতে উদ্বাস্তু হিসেবে বসবাস করছেন। ভারত যেহেতু হাসিনাকে ফেরত দেবে না এবং সেখানে থাকার জন্য তার কোনো বৈধ অনুমোদনও থাকবে না তাই কাল থেকে তিনি দেশটিতে ‘উদ্বাস্তু’ হয়ে পড়ছেন।

তবে শেখ হাসিনা কিসের ভিত্তিতে ভারতে অবস্থান করছেন-সে সম্পর্কে দিল্লির তরফ থেকে প্রকাশ্যে কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। যদিও দিল্লি বলছে, ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক হবে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামনিয়াম জয়শঙ্কর বলেছেন, ‘আমরা যে সরকার ক্ষমতায় (গভর্নমেন্ট অব দ্য ডে) থাকে, তার সঙ্গে কাজ করি’। শেখ হাসিনা যে ভারতে আছেন, সেটা স্বীকার করলেও কিসের ভিত্তিতে তিনি আছেন সে সম্পর্কে দিল্লির তরফে কিছুই বলা হয়নি।

তবে ভারত কি হাসিনাকে এখন বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেবে? উত্তর হলো ‘না’। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জি নিউজকে জানিয়েছেন, কূটনৈতিক পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ফিরিয়ে দেয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এর বদলে হাসিনাকে তিব্বতের ধর্মগুরু দালাই লামার মতো হয়ত বিশেষ রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়া হতে পারে। যিনি ভারতে উদ্বাস্তু হিসেবে বসবাস করছেন। ভারত যেহেতু হাসিনাকে ফেরত দেবে না এবং সেখানে থাকার জন্য তার কোনো বৈধ অনুমোদনও থাকবে না তাই কাল থেকে তিনি দেশটিতে ‘উদ্বাস্তু’ হয়ে পড়ছেন।

১৯৯২ সালে আফগানিস্তানের ভারতপন্থি নেতা মোহাম্মদ নজিবুল্লাহকে আশ্রয় দিয়েছিল ভারত। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ হত্যা করা হলে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে ভারতে আশ্রয় দিয়েছিলেন তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসার পূর্ব পর্যন্ত শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রিত ছিলেন।

কোন আইনে ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, সবকিছু আইন দিয়ে চলে না। তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে রাজনৈতিক কথাবার্তা বলছেন। এটা অস্বস্তিকর। বিষয়টি ভারত সরকারকে অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি আছে। ২০১৩ সালে শেখ হাসিনার সরকারই চুক্তিটি সই করেছিল। এই চুক্তির আওতায় অন্তর্বর্তী সরকার ইচ্ছা করলে শেখ হাসিনাকে ফেরত চাইতে পারে। ভারত শরণার্থী সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনে সই করেনি। তাই শেখ হাসিনা শরণার্থী হিসাবে ভারতে আশ্রয় পাবেন না। তবে ভারত একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে প্রত্যেকটি আলাদা ঘটনা বিচার-বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিকভাবে আশ্রয় দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছে, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেয়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এখানে মানবিক বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে।

নিউজ /এমএসএম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © ukbdtv.com
       
themesba-lates1749691102