শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:০৫ অপরাহ্ন

শাবিপ্রবিতে অধ্যাপক জাফর ইকবাল আজীবন নিষিদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • খবর আপডেট সময় : বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০২৪
  • ১২৭ এই পর্যন্ত দেখেছেন

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মন্তব্য করায় ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা ও আজীবন নিষিদ্ধ করেছেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুরে গণমাধ্যমের কাছে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। শাবিপ্রবিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক আসাদুল্লাহ আল-গালিব গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে একটি বিবৃতি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ফেসবুক ওয়ালে ও শাবিপ্রবির বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করা হয়। এ বিবৃতিতে ‘ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে শাবিপ্রবিতে আজীবন নিষিদ্ধ করা হলো’ বলে উল্লেখ করা হয়।

জনপ্রিয় লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল শাবিপ্রবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক। তার স্ত্রী ড. ইয়াসমিন হকও শাবিপ্রবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক। কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) একটি নিবন্ধ লেখেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল। এ নিবন্ধনের একটি ছোট অংশ ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এ নিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়।

এ ব্যাপারে শাবিপ্রবির আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মুহম্মদ জাফর ইকবালকে আমরা খুব শ্রদ্ধা করতাম। কিন্তু তার মঙ্গলবারের লেখাটি আমাদের হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে। তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। শিক্ষার্থীরা যখন খুন হচ্ছে, হামলার শিকার হচ্ছে তখন একজন শিক্ষক হয়ে তিনি এ ধরনের লেখা লিখতে পারেন না। তাই আমরা তাকে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে আজীবনের জন্যে নিষিদ্ধ করেছি।

মঙ্গলবার মুহম্মদ জাফর ইকবালের নিবন্ধটি তার ‘সাদাসিধে কথা’ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। তাতে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা সবাই জানি একটা দেশে যদি সবাই সমান সুযোগ-সুবিধা পায় আর সবার যদি সমান অধিকার থাকে, তাহলে কোটার কোনো প্রয়োজন নেই। যদি না থাকে তাহলে পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য কোটা রাখা একটা মানবিক ব্যাপার। অবশ্য ‘মানবিক ব্যাপার’ কথাটা একটু বইয়ের ভাষা। সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত, কয়জনের আর অন্যদের মানবিক ব্যাপার নিয়ে মাথাব্যথা আছে? যদি কোটার ব্যাপারটা সহজভাবে দেখি তাহলে বলা যায়, দুই রকমের কোটা আছে। একটা ভালো, আরেকটা খারাপ।’

তিনি আরো লিখেছেন, ‘প্রথমে খারাপটার কথা বলি, তার সবচেয়ে ভালো উদাহরণ হচ্ছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ছেলেমেয়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়ার কোটা, যেটাকে পোষ্য কোটা বলে। আমি খুঁটিনাটি জানি না, সম্ভবত পোষ্য কোটা শুধু শিক্ষকদের জন্য না, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্যও খোলা। কিন্তু বাস্তবে শিক্ষকদের সন্তান ছাড়া আর কোনো সন্তান সেই সুযোগ ব্যবহার করতে পেরেছে বলে মনে হয় না। এই পোষ্য কোটা নিয়ে কখনো উচ্চবাচ্য হতে শুনিনি। যদিও পোষ্য কোটার ছাত্র-ছাত্রীরা পাস করার পর আবার তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক বানাবার একটি নতুন চাপ শুরু হয়—নিজের চোখে দেখা!’

নিবন্ধনের নিচের অংশে জাফর ইকবাল লেখেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার বিশ্ববিদ্যালয়, আমার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়। তবে আমি মনে হয়, আর কোনো দিন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে চাইব না। ছাত্রছাত্রীদের দেখলেই মনে হবে, এরাই হয়ত সেই ‘রাজাকার’। আর যে কয়দিন বেঁচে আছি, আমি কোনো রাজাকারের মুখ দেখতে চাই না। একটাই তো জীবন, সেই জীবনে আবার কেন নতুন করে রাজাকারদের দেখতে হবে?’

নিবন্ধনের এ অংশটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ক্ষোভ দেখা দেয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

নিউজ /এমএসএম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © ukbdtv.com
       
themesba-lates1749691102